• তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবাল
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৯ জুন ২০২৬
  • তোলাবাজির অভিযোগে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবাল। তিনি কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন এবং প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। একাধিক জনসভা, কর্মসূচিতে একই মঞ্চে ফিরহাদের সঙ্গে তাঁকে দেখা গিয়েছে। গার্ডেনরিচ এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, মহম্মদ শাদাব নামে এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে গার্ডেনরিচের তৃণমূল নেতা শামস ইকবালের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করা শুরু হয়। তাঁকে বলা হয়, এলাকায় নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হবে টাকা দিতেই হবে। টাকা না দিলে ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এই ভাবে মোট ৭০ লক্ষ টাকা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

    অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ের কারণে তিনি এতদিন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেননি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এরপরও আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে একাধিকবার তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়।

    এই অভিযোগের ভিত্তিতে শামস ইকবালের পাশাপাশি মহম্মদ ফারাজ, ফেরোজ কুরেশী-সহ আরও কয়েকজনের নাম এফআইআরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, এলাকায় তাঁদের প্রভাব ও দাপট ছিল এবং সেই প্রভাব খাটিয়েই তোলাবাজি চালানো হতো।

    রবিবার শামস ইকবালকে গ্রেপ্তার করে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ। সোমবার, অর্থাৎ আজ তাঁকে আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁর হেফাজতের আবেদন জানাতে পারে বলে সূত্রের খবর। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় তোলাবাজি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং অন্যান্য অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র আইনের অধীনেও পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)