• আজ বিধানসভা পেশ হতে পারে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৯ জুন ২০২৬
  • রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করার পথে এগোচ্ছে বিজেপি সরকার। সোমবার অর্থাৎ আজই এই বিল পেশ হতে পারে বলে খবর। ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং আসামে ইউসিসি চালু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি চালু হলে চতুর্থ রাজ্য হিসেবে পরিচিত হবে।

    ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে দেশের সকল নাগরিকের জন্য অভিন্ন দেওয়ানি আইন প্রণয়নের নির্দেশমূল নীতি উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও দত্তক গ্রহণের মতো বিষয়গুলি বিভিন্ন ধর্মের ব্যক্তিগত আইনের আওতায় পরিচালিত হয়। ইউসিসি চালু হলে ধর্মভিত্তিক এসব ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে সবার জন্য একটি দেওয়ানি আইন প্রযোজ্য হতে পারে।

    নতুন আইন কার্যকর হলে বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে ধর্মভেদে আলাদা নিয়ম থাকবে না। সব নাগরিকের জন্য একই আইনি কাঠামো কার্যকর হবে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এর ফলে বিশেষ করে নারীদের অধিকার আরও সুংসহত হতে পারে এবং বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা বাড়তে পারে।

    উত্তরাখণ্ডের ইউসিসির ধাঁচ অনুসরণ করা হলে বাংলায়ও বিয়ের সরকারি নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হতে পারে। নিবন্ধন না হলে সেই বিয়ে আইনি স্বীকৃতি নাও পেতে পারে। এছাড়া বিবাহিত অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে নিষিদ্ধ থাকবে। পুরুষের ন্যূনতম বিয়ের বয়স ২১ বছর এবং নারীর ১৮ বছর নির্ধারিত করা হবে।

    সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের বদলে একক উত্তরাধিকার আইন কার্যকর হলে বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিধান থাকতে পারে। ছেলে ও মেয়ে উভয়েই সমান অংশীদার হবেন এবং বিধবার সম্পত্তির অধিকারও আরও স্পষ্টভাবে সুরক্ষিত হতে পারে।

    লিভ ইন সম্পর্ক নিয়েও নতুন নিয়ম আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে। উত্তরাখণ্ডের আইনে লিভ ইন সম্পর্ক সরকারি নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন না করলে শান্তির বিধানও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে একই ধরনের বিধান আনা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। সমর্থকদের দাবি, এ ধরনের নিয়ম বাল্যবিবাহ, প্রতারণা এবং আইনি জটিলতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    আসামে যেমন আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়কে ইউসিসির কিছু বিধান থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গেও তাদের ঐতিহ্য ও প্রথা বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বিভিন্ন স্তরে প্রস্তুতি চলছে। তবে এই আইনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলির আপত্তিও রয়েছে। সমর্থকদের মতে, ইউসিসি আইনের দৃ্ষ্টিতে সমতা প্রতিষ্ঠা ও নারীর অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এর সামাজিক ও সাংবিধানিক প্রভাব নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)