• বিধানসভায় পাশ OBC সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল, বিরোধিতা করে কী বললেন নওশাদ-মোস্তাফিজুর?
    এই সময় | ২৯ জুন ২০২৬
  • সোমবার বিধানসভায় পাশ হলো OBC সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল। রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এই বিল এ দিন পেশ করেন বিধানসভায়। ১৮৬টি ভোটে এই বিল পাশ হয়েছে বিধানসভায়। কালীঘাট ও বিদ্রোহী তৃণমূল মিলিয়ে মোট ১৭ জন এই বিরোধিতা করে ভোটদান করেন। বিগত সরকার ওবিসি সংরক্ষণের জন্য ৬৬ থেকে বাড়িয়ে ১১৩টি জাতিকে তালিকা ভুক্ত করেছিল। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সেই অতিরিক্ত তালিকাভুক্ত জাতিদের বাদ দেওয়া হলো। এই সংশোধনীর বিরোধিতা করেন ISF বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানরা।

    মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এই বিল নিয়ে আলোচনায় বলেন, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসের সুপারিশ অনুযায়ী, এসসি, এসটি বা ওবিসি তালিকা পরিবর্তিত হচ্ছে না। পূর্ববর্তী সরকার যে তালিকাযুক্ত করেছে, কেবল সেটা বাতিল করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ১১৩টি জাতিকে এই তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে।’

    তবে এই বিলের বিরোধিতা করে ISF বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘আমি প্রথমেই এই বিলের বিরোধিতা করছি। কারণ কোনও না কোনও জায়গায় এই সংরক্ষণের বিষয় নিয়ে যারা পিছিয়ে পড়া মানুষ তারা হিংসাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। আমি আগেও বলেছি, তাদের ধর্মীয় পরিচয় না দেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কমিশনের গাইডলাইনকে মান্যতা দিয়ে তালিকা তৈরি হোক। তার পরিপ্রেক্ষিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।’

    মূলত,ধর্ম-সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে কেন এই সংশোধনী বিল আনা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। পাল্টা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘গত সরকার যখন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে একটি নির্দিষ্ট ধর্ম সম্প্রদায়কে দেখেই এতগুলি জাতিকে ওবিসি তালিকা ভুক্ত করেছিল, তখন কেন কেউ প্রশ্ন তোলেননি?’

    এই বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক বাবর আলি। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমি সরকারকে প্রশ্ন করতে চাই, যখন ভারতের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কমিশন বছরের পর বছরের ধরে বলে এসেছে, সমাজের এমন একটি গোষ্ঠী অনগ্রসর তখন সরকার কোন বৈজ্ঞানিক নীতির ভিত্তিতে এমন একটি সংশোধনী আনছে? বহু অনগ্রসর সম্প্রদায় তাদের সংরক্ষণের সুবিধা হারানোর আশঙ্কা করেছে, সরকার কি এই সংশোধনী আনার আগে আদৌ কোনও সমীক্ষা করেছে?’

    গত সরকারের আমলে যে নতুন জাতির মানুষদের সংরক্ষণের তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কর্মরত। সেই প্রসঙ্গ তুলে ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি অস্বীকার করছি না আগের সরকারের আমলে এই সংরক্ষণ নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে… তবে এই ক্যাটেগরিতে যাঁরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, অনেক ছেলেমেয়েরা কর্মরত আছেন, আমি বলতে চাই তাঁরা কোনও ধরনের যেন অসুবিধায় না পড়েন। সেটা দেখেই আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।’

    অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ আরও বলেন, ‘১৯৯৩ সালের যে আইন ৬৬টি জাতিকে তালিকাভুক্ত রেখেছে, তাদেরকে আমরা রেখেছি। পরবর্তীতে যদি কমিশন মনে করে সমীক্ষা করে কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ে সামাজিক ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সংরক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তা হলে অবশ্যই সেই সমীক্ষা মেনে সরকার সেই বিষয়ে আলোচনা করে তালিয়াকভুক্ত করা হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)