বাংলায় গবেষণাপত্র ফিরছে পশ্চিমবঙ্গ সায়েন্স কংগ্রেসে, দায়িত্ব নিয়েই উদ্যোগী মন্ত্রী
বর্তমান | ২৯ জুন ২০২৬
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ‘মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চা জরুরি। যতদিন না তা হবে, বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করা যাবে না।’ বলেছিলেন প্রবাদপ্রতিম বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। তাঁর দেখানো পথেই এবার হাঁটতে চাইছে নয়া সরকার। বাংলায় গবেষণাপত্র প্রকাশ করা নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী তথা রাজ্যের নয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী। সেই কারণেই দপ্তরের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিনেই আধিকারিকদের তাঁর নির্দেশ, পশ্চিমবঙ্গ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কংগ্রেসে ফিরিয়ে আনতে হবে বাংলায় গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং পাঠের রীতি।
বাংলার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কংগ্রেসের খ্যাতি ছড়িয়ে রয়েছে সারা বিশ্বে। বাংলা বিজ্ঞান কংগ্রেসে গবেষণাপত্র পাঠ করে পুরস্কারও পেয়েছেন কল্যাণবাবু। তিন-চারটি পুরস্কার আছে তাঁর ঝুলিতে। কিন্তু পূর্বতন সরকার, যারা বেশি করে বাংলা-বাঙালি করত এবং মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে অন্যান্য দলের রীতি-নীতি সম্পর্কে বিভ্রান্ত করত, তাদের আমলেই এই কংগ্রেসে বাংলায় গবেষণাপত্র প্রকাশ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি সরকারের বিজ্ঞানমন্ত্রী। কল্যাণবাবুর কথায়, ‘প্রতি বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ জাতীয় বিজ্ঞান দিবসের দিন ওয়েস্ট বেঙ্গল সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কংগ্রেস শুরু হয়। তিনদিন ধরে বিভিন্ন সারস্বত প্রতিষ্ঠান, অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে, কখনও যাদবপুরে, কখনও কল্যাণীতে, কখনও বর্ধমানে, কখনও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা সেকশনে ভাগ করে গবেষণাপত্র বাংলা ভাষায় পড়া হত। তার আগে, সেই গবেষণাপত্রের সারাংশ ইংরাজি এবং বাংলা দু’টি ভাষাতেই দেওয়া থাকত। একটি পাতায় বাংলা, আরেকটিতে ইংরেজিতে। এটা একটা প্যাটার্ন ছিল। সেটা হাতে হাতে দেওয়া হত। বিজ্ঞানীরা বাংলা ভাষায় তাঁদের গবেষণাপত্র পাঠ করতেন। এটা বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে ও বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত। গত ১৫ বছরে তৃণমূলের শাসনে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে তার আগে ছিল।’ এ বিষয়ে মন্ত্রীর আরও সংযোজন, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের চর্চা বন্ধ হল কেন? কার পরামর্শে তা বন্ধ হয়েছিল? আমি দপ্তরের আধিকারিকদের প্রথম দিনেই বলেছি, এটাকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী তপন সাহা বলেন, এটা ঠিকই যে, এক সময় বাংলায় গবেষণাপত্র পাঠ করা হত। এটা চালু হলে ভালো হবে। সাধারণ মানুষ সাধারণ ভাষায় বিজ্ঞানের বিষয়গুলি বুঝে সেই চর্চার অংশ হতে পারবেন, তবেই তো মানুষের বিচারবুদ্ধি আরও বিজ্ঞানসম্মত হবে। মাতৃভাষায় বা আঞ্চলিক ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই আঞ্চলিক ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা হয়। জাপান, চীন, জার্মানি যেখানেই যান, সেখানেই বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভাষাই প্রাধান্য পায়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি এবং উদ্যানপালন দপ্তরের দায়িত্ব রয়েছে কল্যাণবাবুর কাঁধে। তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত কেন্দ্রের ইন্ডিয়া এআই মিশন চালুর পাশাপাশি জেলাস্তরে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ টানার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।