• আজ আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল, পেশ হবে দুষ্কৃতী দমনে কঠোর দুই বিলও
    বর্তমান | ২৯ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেন গত ৯ মে। ঠিক তার ৫২ দিনের মাথায় ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপের পথে বাংলার ডবল ইঞ্জিন সরকার। কারণ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ তথা বিজেপির চিরকালীন এজেন্ডা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিল বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে আজ, সোমবার। সেইসঙ্গে দুষ্কৃতীদমনে কঠোর আইনের লক্ষ্যে আসতে চলেছে জোড়া বিলও। আসবে ফিনান্স বিল, ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস বিলও। ফলে আজ, দিনভর টানটান উত্তেজনায় পূর্ণ থাকবে বিধানসভার অধিবেশন।

    প্রথম নজর অবশ্যই ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির দিকে। কারণ, এই একটি বিল বিজেপি জমানার সূচনাপর্ব থেকেই বিতর্কের ঝড় তুলে রেখেছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হয়ে গেলে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিধিই আর কার্যকর থাকবে না। এই সংক্রান্ত বিল আজ বিধানসভায় পেশ করার কথা রাজ্য সরকারের। তা না হলেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বক্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর সরকার জানাবে বিধানসভায়। তারপর এই সংক্রান্ত বিল স্পেশাল জুডিশিয়াল কমিটির কাছে পাঠানো হতে পারে। সমাজে মুসলিম, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিয়ে, বিবাহ বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আলাদা আলাদা আইন আছে। কিন্তু বিধি কার্যকর হলে সেইসব আর কার্যকর থাকবে না। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির অর্থ হল, বিভিন্ন ধর্ম, আচার, বিয়ে, বিবাহ বিচ্ছেদ, পারিবারিক অংশিদারিত্ব একটিমাত্র আইনের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হবে। সামগ্রিকভাবে বিষয়টা অবশ্য স্পষ্ট হবে রাজ্য সরকারের বক্তব্য সামনে আসার পর। যদি এর খসড়া সোমবার সকালে বিধায়কদের দেওয়া হয়, তাহলে এই বিলের উপর বিধানসভার অধিবেশনে এক ঘণ্টা আলোচনা হবে। ঘটনাচক্রে কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে আগামী দিনে সরকার ইউনিফর্ম সিভিল কোড আনবে। ল্যান্ড জিহাদ, লাভ জিহাদ, আর বলপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন করার বিরুদ্ধে কঠোর এবং কঠিন আইন আমরা আনব।’ গোয়া, উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং অসমের পর পশ্চিমবঙ্গও জুড়তে চলেছে এই তালিকায়। যদিও এপ্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের ব্যাখ্যা, ‘আমরা নির্বাচনের আগে সংকল্পপত্রে উল্লেখ করেছিলাম, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হবে। প্রতিশ্রুতি মতো সেটাই পূরণ হচ্ছে।’ পালটা তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘রবিবার রাত পর্যন্ত আমাদের কাছে বিলের কপি আসেনি। জানি না তাড়াহুড়ো করে এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকার কেন চাপাতে চলেছে?’

    দ্বিতীয় পর্ব গুন্ডা বা সমাজবিরোধী দমন। শুভেন্দু সরকার পেশ করবে ‘দ্য ওয়েস্টবেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল ২০২৬।’ গুন্ডাদমনে কঠোর আইনের বিধান আছে এই বিলে। শুধু গুন্ডা বা সমাজবিরোধীদের শাস্তিই শেষ নয়। খসড়ায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে রাজ্য। এমনকি গুন্ডা বা সমাজবিরোধীকে কেউ যদি আশ্রয় দেয় বা লুকিয়ে রাখে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও কড়া শাস্তির মুখে পড়বেন। এই বিলের সূত্র ধরে পুলিশ প্রশাসন, জেলাশাসকদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। বিলে উল্লেখ আছে, অভিযুক্তকে এক বছর পর্যন্ত ‘আটক’ করে রাখা যেতে পারে। তারই সঙ্গে আনা হবে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইন্টেনেন্স অব পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি কেউ করলে, তার থেকে জরিমানা আদায় করা হবে। একটি কমিশন গঠন হবে। ওই কমিশন নির্ধারণ করবে, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কারা দায়ী এবং কত টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করলে আগের আমলে পুরস্কৃত করা হত। আমাদের সরকারে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’ কুণাল ঘোষের দাবি, ‘রাওলাট আইনের থেকেও ভয়ংকর বিল। এটা শুধু বিধানসভায় দেড় ঘণ্টার আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার নয়।’
  • Link to this news (বর্তমান)