• এবার কি শিয়ালদহ ও যাদবপুর স্টেশন? পার্ক সার্কাসে উচ্ছেদের পর আতঙ্ক চরমে
    বর্তমান | ২৯ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন স্টেশন ও রেলের জমি থেকে হকার, দখলদার উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। রুটিরুজি হারিয়ে কার্যত পথে বসতে হচ্ছে অনেককে। চলছে উচ্ছেদ বিরোধী প্রতিবাদ, ক্ষোভ-বিক্ষোভও। কিন্তু রেল পুলিশ ও প্রশাসন তাতে খুব একটা বিচলিত নয়। ফলত একের পর এক স্টেশন ও সংলগ্ন চত্বরে বুলডোজারের দাপাদাপি জারি। শনিবার রাতে পার্ক সার্কাস স্টেশনে হকার উচ্ছেদ হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্ল্যাটফর্মের সমস্ত গুমটি, অস্থায়ী দোকান। স্টেশন সংলগ্ন এলাকা ও ‘মা’ উড়ালপুলের নীচের দখলদারদেরও সরাতেও চলেছে বুলডোজার। এই আবহে শিয়ালদহ থেকে যাবদপুর, গড়িয়াহাট—সর্বত্র কলকাতা পুরসভার তরফে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে উচ্ছেদের নোটিস। সময় দেওয়া হয়েছে সাত দিন। তার মধ্যে উড়ালপুলের নীচ থেকে সরে যেতে হবে। শুধু নোটিস দেওয়াই নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশ মাইকিং করে দখলদারদের সরে যেতে বলছে। স্বাভাবিকভাবে শিয়ালদহ, গড়িয়াহাট বা যাদবপুরে ওভারব্রিজের নীচে বহু বছর ধরে থাকা বাসিন্দা, ছোটো ব্যবসায়ী, হকাররা প্রমাদ গুনছেন। উচ্ছেদ আতঙ্ক তাড়া করছে তাঁদের।  

    শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতু, যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন সুকান্ত সেতু ও গড়িয়াহাট ব্রিজের নীচে উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। ঢাকুরিয়া ব্রিজের নীচে পঞ্চাননতলা এলাকায়ও দেওয়া হয়েছে উচ্ছেদের নোটিস। যদিও এসব নোটিসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রাথমিকভাবে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। কারণ, সেই প্রিন্ট আউটে পুরসভার কোনো স্ট্যাম্প ছিল না। শিয়ালদহ শিশির মার্কেটের হকার ইউনিয়নের নেতা নকুল কুণ্ডু বলেন, ‘আমাদের মার্কেটের জন্য কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। তবে ব্রিজের নীচে যেসব হকার বসেন, তাঁদের সরে যেতে বলা হয়েছে সাতদিনের মধ্যে। আর পুলিশ মাইকিং করে বলে গিয়েছে, রাত ১০টার পর সেতুর নীচে যেন কেউ না থাকে। তবে যে নোটিস দেওয়া হয়েছে, সেখানে পুরসভার কোনো আধিকারিকের স্বাক্ষর বা সিলমোহর নেই। সবাই উচ্ছেদের ভয়ে আছে।’ 

    গড়িয়াহাট সেতুর নীচ থেকেও হকার এবং ফুটপাতবাসীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গড়িয়াহাটে ফুটপাতে ব্যাগের স্টল অজয় দে’র। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই ব্যবসা প্রায় লাটে উঠেছে। তার মধ্যে এই উচ্ছেদের আতঙ্ক! সব সময় ভয় কাজ করছে।’ গড়িয়াহাট ইন্দিরা হকার্স ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারি দেবরাজ ঘোষ বলেন, ‘হকারদের আতঙ্কিত হওয়াটা স্বাভাবিক। যদিও গড়িয়াহাটের ফুটপাতের হকারদের জন্য এখনও কোনো নোটিস আসেনি। কেবল ব্রিজের নীচ খালি করে দিতে বলা হয়েছে। তবে উচ্ছেদের ভয় তাড়া করছে সবাইকেই।’ ইতিমধ্যে কুঁদঘাটে মেট্রো করিডরের নীচে এম এন সেন লেনের সমস্ত স্থায়ী-অস্থায়ী নির্মাণ, দোকানপাট সরিয়ে ফেলার নোটিস দিয়েছে পুরসভা। রবিবার সুকান্ত সেতুর নীচের পরিস্থিতি দেখতে পুলিশ ও পুরসভার প্রতিনিধিরা গেলে স্থানীয় হকার্স মার্কেটের দোকানদারদের সঙ্গে তাঁদের বচসা বেধে যায়। 
  • Link to this news (বর্তমান)