• নির্মীয়মাণ ভবনে যৌথ অডিটের আগে শুরু পুরসভার হোমওয়ার্ক
    বর্তমান | ২৯ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের পর শহরের সমস্ত ধরনের নির্মাণে আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করেছে রাজ্য। কলকাতাসহ ১৩টি পুরসভা অঞ্চলের নির্মাণগুলির কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ, সমস্ত নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের অডিট হবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সব ধরনের নির্মাণ এবং আবাসিক বহুতলের ক্ষেত্রে ছ’তলা বা তার বেশি উচ্চতার নির্মাণে নজর দিচ্ছে সরকার। সেই অডিটের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর মিলিয়ে একটি অডিট কমিটি গঠন করেছে রাজ্য। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভা এলাকায় নির্মীয়মাণ বিল্ডিংগুলিতে সার্ভে করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে বরোভিত্তিক যৌথ টিম। সেখানে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের পাশাপাশি পূর্ত, কেএমডিএ, সিইএসসি, পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রতিনিধিরা থাকবেন। তবে সেই যৌথ টিম গঠনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই যৌথ দলের অডিট শুরুর আগে পুরসভা তাদের হোমওয়ার্ক সেরে রাখতে চাইছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানেই আধিকারিকদের খাতা-কলমের কাজ এগিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। 

    পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে খবর, অডিট শুরুর আগে কিছু ‘টাস্ক’ দেওয়া হয়েছে আধিকারিকদের। যে ওয়ার্ডে যত নির্মীয়মাণ বিল্ডিং রয়েছে, তার তালিকা বানানো হয়েছে। সেগুলির মালিকপক্ষ, সংশ্লিষ্ট এলবিএস, আর্কিটেক্ট, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের ফোন করে বিল্ডিং প্ল্যানের কপি পাঠাতে বলা হচ্ছে। সেই সমস্ত নথির সঙ্গে পুরসভায় জমা হওয়া নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে যৌথ দলের ভিজিট ও অডিট শুরুর আগেই পুরসভার হাতে তাদের নিজস্ব একটি রিপোর্ট থাকে। এক আধিকারিক বলেন, ‘কোন নির্মাণগুলি বিল্ডিং প্ল্যান মেনে হচ্ছে, কোনগুলি হচ্ছে না, কোথায় কী খামতি, তার মোটামুটি একটা আগাম ধারণা বা প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে নিয়ে অডিট-সার্ভেতে নামলে কাজের সুবিধা হবে।’

    অন্যদিকে, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে এই নির্মীয়মাণ বিল্ডিংগুলিতে অডিটে কোন কোন বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে, তার একটা প্রাথমিক রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে সার্ভের গাইডলাইন। সেই নির্দেশিকায় দপ্তর আরও বলেছে, কোনো নির্মাণস্থলে শিট পাইলিংয়ের কাজ চললে তা চালু থাকবে। অধিকারিকদের বক্তব্য, এখন বর্ষাকাল। বড়ো বড়ো নির্মাণে শিট পাইলিংয়ের কাজ আটকে থাকলে ওই নির্মাণস্থল থেকে জল মাটির তলা দিয়ে অন্যত্র যাবে। তখন পার্শ্ববর্তী নির্মাণের নীচের মাটি আলগা হয়ে বিপদ বা সমস্যা হতে পারে। মাটি সরে গিয়ে ধস নামতে পারে। তাই যেখানে শিট পাইলিংয়ের মাধ্যমে এই ধরনের গার্ডওয়াল তৈরি বা সতর্কতামূলক কাজ চলছে, সেগুলি চালু রাখতে বলা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)