• বৈশালী ডালমিয়ার সম্পত্তি মিউটেশনে জালিয়াতি, ধৃত ১
    বর্তমান | ২৯ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার কর্মী পরিচয় দিয়ে মিউটেশন করিয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। প্রতারণার শিকার হয়ে ৪ লক্ষের বেশি টাকা খোয়ানোর অভিযোগ করেছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বৈশালী ডালমিয়া। তাঁর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রণব কয়াল নামে একজনকে শনিবার গ্রেপ্তার করেছে শেক্সপিয়ার সরণি থানা।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শেক্সপিয়ার সরণি এলাকায় বৈশালী দেবীর কিছু সম্পত্তি রয়েছে। ওই জমির মিউটেশনের জন্য তিনি কয়েকজনের সঙ্গে যোগযোগ করেছিলেন। সেই সূত্রে জালিয়াত চক্র কলকাতা পুরসভার কর্মী পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। অভিযোগকারীকে জানানো হয়, তারা মিউটেশনের বিষয়টি দেখভাল করে। এ সংক্রান্ত নথিও তাদের কাছ থেকেই পাওয়া যাবে। অভিযুক্তরা জমি ভিজিট করে যায়। এরপর জানায়, চার লক্ষের বেশি টাকা খরচ পড়বে। বৈশালী ডালমিয়া রাজি হলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত  ধাপে ধাপে চার লক্ষের বেশি টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু অভিযোগকারিণী এরপরেও মিউটেশনের কপি হাতে পাননি। তাদের সঙ্গে যোগযোগ করলে তাঁকে বলা হয়, জমির কিছু সমস্যা থাকায় এই প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। কিন্তু তাদের কথাবার্তা সন্তোষজনক না হওয়ায় বৈশালীদেবী পুরসভার সঙ্গে যোগযোগ করে জানতে পারেন, তাঁর জমির মিউটেশনের জন্য কোনো টাকা পুরসভায় জমা পড়েনি। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। শেক্সপিয়ার সরণি থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ প্রতারণার মামলা রুজু করে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, প্রণব কয়াল নামে এক ব্যক্তি বৈশালীদেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। সে আরও অনেকের কাছ থেকে এভাবে টাকা তুলেছে। অনেককে জাল মিউটেশন সার্টিফিকেট পর্যন্ত দিয়েছে। এরপর দক্ষিণ কলকাতায় তার ডেরায় হানা দিয়ে পুলিশ শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে।  

    তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এই জালিয়াত চক্রে জনা দশেক লোক রয়েছে। তারা বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মিউটেশনের নামে টাকা তুলছে।  তাদের সঙ্গে পুরসভায় কর্মরত কয়েকজনের যোগাযোগ রয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন জমির তথ্য পাচ্ছে। তারপরই ফোন করছে জমির মালিককে। এই কায়দায় তারা কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)