• কলকাতায় সাড়ম্বরে জগন্নাথের স্নানযাত্রা পালন
    বর্তমান | ২৯ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জগন্নাথের স্নানযাত্রা হল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটা। যা রথযাত্রার ঠিক আগে হয়। একে ‘দেবস্নান পূর্ণিমা’ও বলে। জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা আর সুদর্শন চক্রকে গর্ভগৃহ থেকে বের করে মন্দিরের ‘স্নানবেদী’তে আনা হয়। সেখানে ১০৮ কলসি পবিত্র জলে মহাস্নান করানো হয়। তবে এবার মল মাস পড়ে যাওয়ায় জ্যৈষ্ঠের বদলে আষাঢ় মাসে হচ্ছে। বিশ্বের সমস্ত প্রান্তে বহু জগন্নাথ মন্দির রয়েছে। আজ পুরীর মন্দিরের মত সেই সব মন্দিরেও সাড়ম্বরে চলছে স্নানযাত্রা উৎসব। কলকাতার খিদিরপুরের জগন্নাথ মন্দিরে সকাল থেকে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। রীতি মেনে গর্ভগৃহ থেকে বার করা হয় জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা কে। এরপর চলে ১০৮ কলসি জল ঢেলে স্নান পর্ব। এদিন এই মন্দিরে ১০৮ জন ভক্ত এক এক করে নিষ্ঠা মেনে স্নান করান জল ঢেলে। 

    কথিত আছে, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন যখন প্রথম জগন্নাথ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন এই দিনেই দেবতাদের স্নান করিয়েছিলেন। আবার অনেকে বলে, এই দিনটি জগন্নাথের জন্মতিথি। ভক্তরা তাই তাকে স্নান করিয়ে জন্মদিন পালন করেন। বলা হয়, ১০৮ কলসি জলে স্নান করার পর জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ‘জ্বরে’ পড়েন। এই সময়টাকে বলে ‘অনসর’। ১৫ দিন জগন্নাথ দর্শন বন্ধ থাকে। এই  ক’দিন  মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে। পটচিত্রে পূজা হয়। বলা হয়, এই সময় বৈদ্যরা অসুস্থ জগন্নাথের চিকিৎসা করেন। বিশ্বাস, এই ১৫ দিনে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা  সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নতুন যৌবন লাভ করেন। একে ‘নবযৌবন’ বলে। ‘অনসর’ শেষ হলে ‘নবযৌবন দর্শন’ হয়। তার ১ দিন পর হয় রথযাত্রা। 
  • Link to this news (বর্তমান)