• আমার মতো আবেগপ্রবণ মানুষ রাজনীতি করতে পারবে না : ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
    বর্তমান | ২৯ জুন ২০২৬
  • মুক্তির অপেক্ষায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর ছবি ‘নেভারমাইন্ড’। তা নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে নানা কথা জানালেন নায়িকা।

    প্রশ্নঃ নেভারমাইন্ড তো অদ্ভুত নাম!
    উত্তরঃ হ্যাঁ, নামটা অন্যরকম। ছবিতে অনেক রহস্য আছে। ছবি জুড়ে আছে কলকাতা শহর। মূলত পার্ক স্ট্রিট। আমরা পার্ক স্ট্রিট নিয়ে রোমাঞ্চ অনুভব করি। সেটা এই ছবির উপজীব্য।

    প্রশ্নঃ পার্ক স্ট্রিটকে ঘিরে গল্প?
    পার্ক স্ট্রিটের একটা বার-এর নাম ‘নেভারমাইন্ড’। সেখানে কী কী হচ্ছে, সেটা নিয়ে গল্প।

    প্রশ্নঃ পার্ক স্ট্রিট নিয়ে আপনার ছোটোবেলার স্মৃতি কেমন?
    অনেক স্মৃতি...। কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি! বাবা যখন বলত, আমরা মোকাম্বোতে খেতে যাব, মনটা নেচে উঠত। আর ক্রিসমাসে পার্ক স্ট্রিট যাওয়ার আলাদা উন্মাদনা ছিল। এগুলো জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে।

    প্রশ্নঃ ‘নেভারমাইন্ড’ শব্দটা শুনলে আপনার প্রথম কী মনে পড়ে?
    উত্তরঃ এই শব্দটা আমার সঙ্গী। জীবনের অঙ্গ (হাসি)। আমি জীবনে সব কিছুই করি নেভারমাইন্ড বলে। ঠিক আছে, চলো, আবার করো...। এটা বোধহয় আমরা জীবনের মূল মন্ত্র।

    প্রশ্নঃ আপনার চরিত্র তৃণাকে কীভাবে তৈরি করলেন?
    উত্তরঃ এই চরিত্রের মধ্যে অদ্ভুত একটা ফ্লেভার আছে। সে খুব কনফিউজড। জানে না, কী করবে। হঠাৎ করে কোনো একটা জায়গায় এসে ও কিছু খুঁজছে। অনেকদিন পর ইংল্যান্ড থেকে ফিরেছে। একটা সময় কলকাতা শহরের সঙ্গে ওর অনেক কিছু জড়িয়ে ছিল। এখন আর সেটা নেই। আমার মনে হয়, পার্ক স্ট্রিট নিয়ে তো তেমন ছবি হয়নি। অঞ্জন দত্ত অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের হাইলাইট করে কিছু গল্প বলেছেন। কিন্তু এই ধরনের রাতের গল্প, নিয়ন আলো, ভেজা পরিবেশ — এই ছবিটা আমি খুব এনজয় করেছি।

    প্রশ্নঃ পরিচালক চৈতি ঘোষালকে কেমন দেখলেন?
    উত্তরঃ আমার সঙ্গে বহু বছরের সম্পর্ক। ওঁর কাজ খুবই সম্মান করি। চৈতিদির হোমওয়ার্ক দারুণ। সেটা একজন পরিচালকের জন্য খুব জরুরি।

    প্রশ্নঃ নতুন সরকারের আমলে কোন ছবি কখন মুক্তি পাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আপনাদের আছে?
    উত্তরঃ আমার মনে হয়, কোন সময় ছবি মুক্তি পাবে, সেটা ঠিক করার স্বাধীনতা পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতাদের এখন আছে।

    প্রশ্নঃ নতুন সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা?
    উত্তরঃ সকলে মিলে কাজ করুক। সকলে যেন কো-এগজিস্ট করতে পারে। বাইরে থেকে আরও প্রযোজক আসুক। ইন্ডাস্ট্রি বড়ো হোক।

    প্রশ্নঃ আপনার কখনো প্রথাগত রাজনীতি করতে ইচ্ছে করেনি?
    উত্তরঃ না, আমার কখনো সরাসরি রাজনীতি করতে ইচ্ছে করেনি। নিজেকে ওখানে মিসফিট মনে হয়। আমি ক্রিয়েটিভ মানুষ। রাজনীতি করতে গেলে মনটা পলিটিক্যাল হতে হবে (হাসি)। আমি ইমোশনাল। এত আবেগপ্রবণ মানুষ রাজনীতি করতে পারবে না।

    প্রশ্নঃ অফার এসেছে?
    উত্তরঃ (সামান্য থেমে) এসেছে অনেক সময়। কিন্তু আমি সেসবে কখনো আমল দিইনি।
  • Link to this news (বর্তমান)