: পাহাড় ও সমতলে টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির জেরে ফুলেফেঁপে উঠেছে মহানন্দা নদী। জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় রবিবার সকালে ফুলবাড়ির মহানন্দা ব্যারেজের একাধিক জলকপাট খুলে দেয় সেচ দফতর। খোলা কপাট দিয়ে প্রবল বেগে জল প্রবাহিত হতে শুরু করায় গোটা এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বজায় রাখতে এবং অতিরিক্ত জলচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রবিবার ভোর থেকেই ব্যারেজ চত্বরে অন্যরকম এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। বিশাল জলরাশি ফেনা তুলে নীচের দিকে ধেয়ে যেতে দেখে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। বহু মানুষ মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য বন্দি করেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যারেজের কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর আগেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই পূর্বাভাস মেনেই শনিবার রাতভর দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সমতলের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বর্ষণ হয়। পাহাড়ি ঝোরা, ছোট নদী এবং উপনদীগুলির জল দ্রুত নেমে আসায় মহানন্দা ব্যারেজে জলের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। জলস্তর আরও বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জলকপাট খোলার বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকাগুলির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাও সক্রিয় রাখা হয়েছে।
বর্ষার শুরুতেই মহানন্দার এই রুদ্ররূপ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে। তবে প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় সেচ দফতর, জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে যেকোনও ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।