মেডিটেশনে ম্যাজিকের মতো কাজ, বিশ্ববাজারে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে গেল বাংলার 'ধ্বনি পাত্র'
News18 বাংলা | ২৯ জুন ২০২৬
বাঁকুড়ার ঐতিহ্যের মুকুটে এবার আরও এক নতুন পালক। আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় সিমলাপালের পুখুরিয়া গ্রামের কাঁসার তৈরি ‘বেঙ্গল সিঙ্গিং বোল’ বা ধ্বনি পাত্র পেল জিআই স্বীকৃতি। শুধু ধ্বনি পাত্রই নয়, একসঙ্গে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার একাধিক ঐতিহ্যবাহী শিল্পের জিআই স্বীকৃতিতে খুশির হাওয়া শিল্পী মহলে। বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণে সিমলাপাল ব্লকের বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুখুরিয়া গ্রাম। কর্মকার সম্প্রদায়ের বসবাস বেশি হওয়ায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে কামারশালা।
তবে এই কামারশালার কাজ অন্যরকম। টিন ও তামার মিশ্রণে তৈরি কাঁসাকে পিটিয়ে তৈরি হয় বিশেষ ধ্বনি পাত্র বা ‘বেঙ্গল সিঙ্গিং বোল’। ১০০ গ্রাম থেকে শুরু করে ৩৫ কেজি ওজনের ধ্বনি পাত্রও তৈরি হয়েছে এই গ্রামে। বর্তমানে কেজি প্রতি দাম প্রায় ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা। গ্রামে রয়েছে প্রায় ৮৫টি উৎপাদন ইউনিট, যেখানে বহু শিল্পী প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন। একসময় এই কাঁসার বাটিই ছিল ঘরের নিত্যদিনের ব্যবহার্য পাত্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দাম বেড়েছে, কমেছে ব্যবহার। ফলে ধাক্কা খেয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প। তবে নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে বিদেশের বাজার।
আজ এই কাঁসার বাটি খাবারের পাত্রের চেয়েও বেশি পরিচিত সাউন্ড থেরাপি ও মেডিটেশনের উপকরণ হিসেবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এই ধ্বনি পাত্রের। এই শিল্পকে স্বীকৃতি এনে দিতে গত কয়েক বছরে একাধিক প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে তৎকালীন মহকুমা শাসক নেহা বন্দ্যোপাধ্যায় পুখুরিয়া গ্রামে গিয়ে শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শিল্পের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রচেষ্টার পর অবশেষে মিলেছে জিআই স্বীকৃতি।শিল্পীদের দাবি, এতদিন বিদেশের বিভিন্ন দেশ এই ধরনের বাটি নিজেদের নামে বাজারজাত করত।
এবার জিআই স্বীকৃতির ফলে বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হল, এই শিল্পের প্রকৃত জন্মভূমি বাঁকুড়ার পুখুরিয়া। শিল্পীদের আশা, এই স্বীকৃতির পর আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বাড়বে চাহিদা। সরকারের সহযোগিতায় পুখুরিয়ায় গড়ে উঠুক একটি বড় শিল্প হাব, তৈরি হোক রপ্তানির পরিকাঠামো, আর সেই সঙ্গে বাড়ুক শিল্পীদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক নিরাপত্তা। একটি জিআই স্বীকৃতি শুধু একটি পণ্যের নয়, স্বীকৃতি পেল বাঁকুড়ার শতাব্দী প্রাচীন কারিগরি ঐতিহ্য, শিল্পীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং বাংলার গর্ব। এখন দেখার, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কতটা নতুন দিগন্ত খুলে দেয় পুখুরিয়ার কাঁসার ধ্বনি পাত্র শিল্পের সামনে।