• লাগাতার মেঘভাঙা বৃষ্টিতে তিস্তা-মহানন্দার রুদ্ররূপ, বন্যার ভয়ে থরথর করে কাঁপছে ডুয়ার্স
    News18 বাংলা | ২৯ জুন ২০২৬
  • উত্তরবঙ্গে লুকিয়ে বড় বিপদ! টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপদের মুখে উত্তরবঙ্গ। ৫৫ জায়গায় বাঁধ ভাঙনের জেরে ডুয়ার্সে বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা। কপালে ভাঁজ তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের। উত্তরবঙ্গে টানা কয়েকদিনের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিতে নদীভাঙন ও বাঁধ ক্ষতির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমা, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার এই চার জেলায় মোট ৫৫টি জায়গায় নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেচ দফতর।

    এর মধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সেচ দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড় ও সমতলে লাগাতার বৃষ্টির ফলে তিস্তা, মহানন্দা, জলঢাকা সহ একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে সিকিম ও ভুটানের পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জলের চাপ আরও বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে ডুয়ার্স অঞ্চলে। ফলে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, জলপাইগুড়িতে সবচেয়ে বেশি ২১টি জায়গায় বাঁধে ফাটল বা ভাঙন দেখা দিয়েছে। শিলিগুড়ি মহকুমায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭টি স্থান। কোচবিহারে ১০টি এবং আলিপুরদুয়ারে ৭টি জায়গায় নদীবাঁধ ক্ষতির খবর মিলেছে। ইতিমধ্যেই কোচবিহারের তুফানগঞ্জ এবং জলপাইগুড়ির বানারহাট এলাকায় ভাঙনের ঘটনা সামনে এসেছে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে সেচ দফতর জরুরি ভিত্তিতে মেরামতির কাজ শুরু করেছে। দফতরের উত্তরপূর্বাঞ্চলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোথাও নতুন করে ফাটল বা ভাঙন দেখা দিলেই দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু করা হচ্ছে। তবে নদীতে জল বেশি থাকায় স্থায়ী মেরামতি আপাতত সম্ভব নয়। আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অস্থায়ী মেরামতির ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)