ঐতিহ্যের আবহে পালিত হচ্ছে স্নানযাত্রা৷ এই পুণ্যক্ষণে মহাপ্রভুর আশীর্বাদ লাভ করলে জীবনে সুখ, শান্তি নেমে আসে। রথযাত্রার ঠিক ১৫ দিন আগে ২৯ জুন সোমবার আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিঘার মন্দিরে ভগবান জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা সাড়ম্বরে আয়োজিত হয়েছে। জগন্নাথের শুভ জন্মতিথি হিসাবেও পরিচিত এই উৎসব। স্নানযাত্রার এই পবিত্র দৃশ্য দেখতে বহু ভক্তের সমাগম হয়েছে দিঘা জগন্নাথ মন্দিরে। নিয়ম ও তিথি মেনে সকাল ১০:৩০ মিনিটের পর স্নান যাত্রা শুরু হয় জগন্নাথ মন্দিরে৷
এদিন ১০৮ কলসি পবিত্র জল দিয়ে দেবতাদের স্নান করানো হয়। ১০৮টি তীর্থক্ষেত্র থেকে আনা এই বিশেষ জলে মেশানো হবে গঙ্গা জল, তুলসী পাতা, কাঁচা দুধ, আতর, চন্দন ও কর্পূর। স্নানকালে পুরোহিতরা মুখ ঢেকে ভক্তিভরে মন্ত্রোচ্চারণ করেন এবং চারপাশ মুখরিত হয় কীর্তন ও শঙ্খধ্বনিতে। স্নানের পর দেবতাদের মনোমুগ্ধকর পোশাকে সাজানো হয়। জগন্নাথদেব ও বলরামকে গণেশের রূপে (গজবেশ) এবং সুভদ্রাদেবীকে পদ্মবেশে সজ্জিত করা হয়। এই গজবেশ ধারণের পেছনে ভক্ত গণপতি ভট্টের প্রতি ভগবানের কৃপার এক প্রচলিত বিশ্বাস জড়িত।
দিঘা জগন্নাথ ধাম ট্রাস্ট্রির সদস্য রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, ‘সোমবার দিঘা জগন্নাথ মন্দিরে স্নানযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ১০৮ কলসি পবিত্র জল দিয়ে দেবতাদের স্নান করান হয়। ১০৮টি তীর্থক্ষেত্র থেকে আনা হয়েছে বিশেষ জল। ওই জলে মেশানো হয় গঙ্গা জল, তুলসী পাতা, কাঁচা দুধ, আতর, চন্দন ও কর্পূর। তারপর সেই জল দিয়েই জগন্নাথ দেব বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর স্নান যাত্রা সম্পন্ন হয়। দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের এই স্নানযাত্রার আয়োজনে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না।’
‘পাহাণ্ডি বিজয়’ শোভাযাত্রার মাধ্যমে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা, সুদর্শন চক্র এবং মদনমোহন বিগ্রহকে মন্দিরের বাইরে স্নানমণ্ডপে নিয়ে আসা হয়। ভক্তদের সুবিধার জন্য মন্দিরের সামনে উঁচু মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে, যাতে দূর থেকেও বিগ্রহ দর্শন সম্ভব হয়। স্নান যাত্রার পর থেকে জগন্নাথ দেবের দর্শন ১৪ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।