: ৬ জুলাই ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির জন্মজয়ন্তী। সেই উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর মূর্তি স্থাপনের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। আর সেই বাড়তি চাহিদা মেটাতেই দিন-রাত এক করে কাজ করছেন পূর্ব বর্ধমানের কালনার খ্যাতনামা ভাস্কর শিল্পী জগত মণ্ডল। তাঁর কর্মশালায় এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। মার্বেল ডাস্ট ও বিশেষ কেমিক্যালের মিশ্রণে একের পর এক তৈরি হচ্ছে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মূর্তি।
শিল্পী জগত মণ্ডল জানান, জন্মজয়ন্তীর আগেই তিনি ইতিমধ্যেই ১২টি মূর্তি তৈরির অর্ডার পেয়েছেন। সময়ের অভাবে আরও বেশ কয়েকটি অর্ডার ফিরিয়ে দিতেও হয়েছে। তাঁর কথায়, প্রতি বছরই এই সময়ে মূর্তির চাহিদা বাড়ে, তবে এবার সেই চাহিদা আরও বেশি। বর্তমানে তাঁকে দিন রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। অতি ধৈর্যের সঙ্গেই নিখুঁত ভাবে করতে হচ্ছে কাজ। মূর্তি তৈরির চাপে ঠিক থাকছে না খাবার সময়। জগত মণ্ডলের শিল্পকর্মের সুনাম শুধু পূর্ব বর্ধমান বা পশ্চিমবঙ্গেই নয়, রাজ্যের বাইরেও ছড়িয়ে রয়েছে। কলকাতার রুবি মোড়ে স্থাপিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিও তাঁরই তৈরি। এবার তাঁর হাতের তৈরি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মূর্তিও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় স্থান পেতে চলেছে। এই শিল্পযাত্রায় জগত মণ্ডলের অন্যতম সহযাত্রী তাঁর স্ত্রী বুলটি মণ্ডল। মূর্তি তৈরির প্রতিটি ধাপে তিনি স্বামীকে সহযোগিতা করেন।
বুলটি মণ্ডল বলেন, এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে তাঁর খুব ভাল লাগে। মানুষের ভালবাসা ও সম্মানই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি সংসারের যাবতীয় কাজ সামলানোর পরেও তাঁর স্বামীকে এই কাজে সাহায্য করছেন। তবে এই কাজের সাফল্যের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদনও জানিয়েছেন এই শিল্পী।
তাঁর মতে, কালনা ও আশপাশের এলাকার বহু প্রাচীন টেরাকোটা মন্দির আজ সংস্কারের অপেক্ষায়। দক্ষ স্থানীয় শিল্পীদের কাজে লাগিয়ে যদি এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলিকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে বাংলার ঐতিহ্য ও শিল্পকলার সংরক্ষণ আরও সমৃদ্ধ হবে।