: ‘পেটে খুব ব্যথা করছে, একটু দরজাটা খুলুন…’! গভীর রাতে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির এই আকুল আর্তনাদ শুনে সাহায্য করতেই দরজা খুলেছিলেন গৃহকর্তা। কিন্তু দরজা খুলতেই বদলে গেল দৃশ্যপট। পেটে ব্যথার নাটক করে ঘরে ঢুকে পড়ল মুখঢাকা সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল। গৃহকর্তার মাথায় বন্দুক এবং নিষ্পাপ শিশুর গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলল অবাধ লুটপাট। নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গহনা ও কাঁসার বাসনপত্র-সহ লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী লুট করে চম্পট দিল ডাকাত দল। এমনকি বাড়ির গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ি থানার অন্তর্গত আড্ডা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আড্ডা গ্রামের বাসিন্দা রিসু মাল পেশায় একজন বাইক মেকানিক। প্রতিদিনের মতোই গত রাতেও তিনি সপরিবারে ঘুমোচ্ছিলেন। অভিযোগ, রবিবার রাত আনুমানিক ২টো নাগাদ হঠাৎই এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পেটে ব্যথার অছিলায় সাহায্য চেয়ে তাঁদের বাড়ির দরজা নক করে। মানবিকতার খাতিরে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে রিসু বাবু দরজা খুলতেই দুই মুখঢাকা দুষ্কৃতী হুড়মুড়িয়ে ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ে। ঘরে ঢুকেই একজন দুষ্কৃতী সরাসরি রিসু বাবুর মাথায় পিস্তল ঠেকায় এবং অন্যজন তাঁদের ছোট্ট শিশুর গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে পরিবারের সবাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর সবাইকে একটি ঘরের মধ্যে বন্দী করে ফেলা হয়।
লুণ্ঠনকারীরা বাড়ির গৃহবধূকে ভয় দেখিয়ে আলমারির চাবি কেড়ে নেয় এবং সমস্ত লকার খোলে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুরো বাড়ি তছনছ করে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, শুধু লুটপাটই নয়, যাওয়ার আগে বাড়ির মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করে তারা। যাওয়ার সময় কাঁসার থালা-বাসন, সোনা ও রুপোর গহনা, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকার সম্পত্তি নিয়ে চম্পট দেয় ডাকাত দল।
দুষ্কৃতীরা এলাকা ছাড়তেই কোনওমতে সিউড়ি থানায় খবর দেয় সর্বস্ব হারানো পরিবারটি। খবর পেয়ে গভীর রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিউড়ি থানার পুলিশ। এই নৃশংস ও আকস্মিক ডাকাতির ঘটনায় আড্ডা গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামীণ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিউড়ী থানার পুলিশ। দোষীদের খোঁজে ও লুটের মাল উদ্ধার করতে জোরকদমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।