এই সময়, আলিপুরদুয়ার: ২০২২ থেকে ২০২৬-এর ২৮ জুন পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে একটিও গন্ডার হত্যার ঘটনা ঘটেনি। যা এক সর্বকালীন রেকর্ড। রবিবার এই তথ্য সামনে এনেছে বন দপ্তর। বনকর্তাদের মতে, এই তথ্য গন্ডার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে গন্ডারের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। অথচ ১৯৮৪ থেকে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যে ওই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ১৪-তে। তার পর থেকে যৌথ বন পরিচালন ব্যবস্থার সফল প্রয়োগে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে জলদাপাড়া।
এখানেই শেষ নয়, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বন্যপ্রাণ হত্যা, দেহাংশ পাচার সংক্রান্ত ১৩টি পৃথক মামলায় ২২ জনকে সাজা দিতে সফল হয়েছে বন দপ্তর। যা বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত অপরাধ ঠেকাতে সারা দেশের মধ্যে নজির বলে মত বনকর্তাদের।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে সারা দেশজুড়ে বহু অপরাধী বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত অপরাধ ঘটিয়েও পার পেয়ে গিয়েছে। অথচ সেখানে জলদাপাড়ায় অপরাধীদের শাস্তি পাওয়ানোর ক্ষেত্রে সাফল্যের হার প্রায় একশো শতাংশে।
বন দপ্তরের মতে, বনপ্রাণ সুরক্ষায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা কায়েম করেই রোখা গিয়েছে গন্ডারের শৃঙ্গ, হাতির দাঁত, চিতাবাঘের চামড়া, প্যাঙ্গোলিনের আঁশ ও খুলি, জীবন্ত প্যাঙ্গোলিন, জীবন্ত টোকে গেকো, হরিণের মাংস এবং শিং পাচারের মতো ঘটনাগুলি। জলদাপাড়া বনবিভাগের দেওয়া তথ্য জানার পরে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ বলেন, 'এটি নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। এই ট্র্যাক-রেকর্ড ধরে রাখতে হবে। এখানে আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের প্রশ্নে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।'