অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান চুরি মামলায় সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থে মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে মামলা শোনার আর্জি মঞ্জুর করল না দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ম মেনেই বিবেচিত হবে, আলাদা করে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির প্রয়োজন নেই।
সোমবার আদালতে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান ও মূল্যবান জিনিস তদারকিতে অনিয়ম এবং চুরির অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইকে দেওয়ার আর্জি জমা পড়ে বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানিতে নারাজ বিচারপতিরা।
বিচারপতিদের মতে, মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শোনার মতো বিষয় নয়। শুনানির সময়ে আদালত মৌখিকভাবে মন্তব্য করে যে, ‘বিষয়টি এমন নয় যে, দ্রুত শুনানি না হলে আকাশ ভেঙে পড়বে। গ্রীষ্মের ছুটির পরে এই মামলার শুনানি হতে পারে। ততদিনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না।’ অর্থাৎ, মামলায় দ্রুত শুনানির প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালত মনে করেনি। তবে আদালত শুনানির আবেদন খারিজ করেনি। স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি তালিকাভুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
রাম মন্দিরের অনুদান তহবিলের হিসাবে গরমিল সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়। এর আগে তদন্তের অংশ হিসেবে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে এবং মোট আট জনের বিরুদ্ধে চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে।
সূত্রের খবর, রামমন্দিরে অনুদানের হিসেবে জমা পড়া কোটি কোটি টাকার হিসাব নেই। পাওয়া যাচ্ছে না প্রচুর মূল্যবান জিনিস। সিটের রিপোর্টের পরে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হিসাব-বহির্ভূত প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। সিটের রিপোর্ট অনুযায়ী, রামমন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এই বিপুল অনুদানের একটা বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না৷
সিট সূত্রে খবর, সিসিটিভি কায়দা করে ঢেকে নগদ গোনার সময়ে টাকা হাতানো হয়েছে। শৌচাগারে লুকনো হতো টাকা। পরে সুযোগ বুঝে সেই টাকা বের করে নিয়ে যাওয়া হত। পরবর্তী সময়ে চুরি করা অর্থ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে ‘বখরা’ পাঠানো হতো নির্দিষ্ট জায়গায়। ২০২৪ সালে দেড় মাসের মধ্যে ৭০ বার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অনুদানে জমা পড়া টাকা ও মূল্যবান রত্ন, সোনা-রূপো।
অনুদান চুরির অভিযোগে ধৃত চম্পত রাইয়ের গাড়ি চালক ও অনুদান গণনায় যুক্ত টিন্নু যাদব, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প শুক্লা, অবিনাশ শুক্ল, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। নজরে আরও ১৮ জন। তাঁদের নাম এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।