সন্তানের সামনেই নিজের স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে আত্মঘাতী হলেন এক ব্যক্তি। ভয়ঙ্কর ঘটনা বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীতে। মৃত গৃহবধূর নাম অম্বিকা দাস (৩০)। তাঁর স্বামীর না্ম মানস দাস (৪৪)। দু’জনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সাংসারিক অশান্তি ছিল বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনার নথি সংক্রান্ত বিষয়ে দু’জনের বিবাদ হয় বলেও দাবি পরিবারের।
বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী থানার ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আলমপুর গ্রামে ঘটে এই নৃশংস ঘটনা। স্থানীয় এবং আত্মীয়দের সূত্রে জানা গিয়েছে , এই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ ছিল। গৃহবধূর বাপের বাড়ির সদস্যের দাবি, বিভিন্ন বিষয়ে দু’জনের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত।
দম্পতির নয় বছরের পুত্র সন্তান জানায়, রবিবার রাতে তার বাবা হঠাৎ করেই মাংস কাটার একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। মাকে বাঁচাতে গিয়ে আঘাত পায় সেও। ওই কিশোর ছুটে এসে তার কাকাদের ঘটনার কথা বলে। তড়িঘড়ি তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছে গৃহবধূ। পরিবারের দাবি, পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্ত স্বামী সবার অলক্ষ্যে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মৃত গৃহবধূর বৌদি কল্পনা বাগ বলেন, ‘ওঁদের মধ্যে অশান্তি দীর্ঘদিন ছিল। সম্প্রতি অম্বিকা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপের জন্য মানসের থেকে বেশ কিছু নথি চেয়েছিল। কিন্তু সেই ডকুমেন্ট কিছুতেই দিত না। তা নিয়ে অশান্তি চলত।’ অন্য দিকে, মানসের দাদা সঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, মানস দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। হঠাৎ করে রবিবার রাতে এই কাণ্ড ঘটায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সোনামুখী থানার পুলিশ। বিছানা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই গৃহবধূর দেহ এবং ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মানস দাসের মৃতদেহ উদ্ধার করে। সোমবার মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্ত করা হয় বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে। পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।