আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে আগেও সরব হয়েছিলেন তিনি। এবার ফের রচনা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রাক্তন বিধায়ক ও সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। হুগলির সাংসদ রচনা ব্যানার্জির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ফেসবুকে 'মুখ' খুললেন তিনি। সেই পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কী লিখেছেন মনোরঞ্জন? ফেসবুকে বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক লিখেছেন, আমার কোনো আক্ষেপ নেই। রচনা ব্যানার্জি পাল্টি মেরেছে। সত্যি বলছি আমার এতে কোন আক্ষেপ নেই। আক্ষেপ তখন হতো যদি রচনা ব্যানার্জিকে ২৪ শের লোকসভার ভোটে জয়ী করার জন্য আমি কোন রকম পরিশ্রম করতাম। যখন তার নির্বাচনে প্রচার চলেছিল আমি তখন নাকে তেল দিয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। কারণ মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি এক জনসভায় - প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমাকে দলের সমস্ত কাজ কর্ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন।'' (বানান অপরিবর্তীত)
এখানেই শেষ নয়, মনোরঞ্জন রীতিমতো মমতাকে নিশানা করে লেখেন, ''আজ তাই ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয়া মমতা ব্যানার্জিকে সঠিক সময়ে আমাকে তৃনমূল থেকে বহিষ্কার করার জন্যে। নাহলে আজ আমার খুবই আফসোস হতো সমস্ত পরিশ্রম জলে চলে গেল বলে। খুব বাঁচা বেঁচে গেছি সেই মনোকষ্ট থেকে।''
একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হলেও দলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিকবার মুখ খুলে দলের বিরাগভাজন হয়েছিলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। বিশেষ করে বলাগড়ের তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয় নিয়ে তিনি বারবার সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছিলেন। সেই সূত্রেই দলনেত্রী মমতার সঙ্গেও তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায়, প্রকাশ্য সভা থেকে মমতা তাঁকে দলীয় সাংগঠনিক কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থীও করেনি তৃণমূল।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রচনাও। তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূল এত দুর্নীতিগ্রস্ত দল, তা আগে জানলে তিনি কখনই তৃণমূলে যোগ দিতেন না। যদিও কাকলি ঘোষ দস্তিদার গোষ্ঠীর সঙ্গে রচনার 'মিলে' যাওয়ার সম্ভাবনাও বারবার সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে এবার তৃণমূলের অন্দরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে হুগলির সাংসদ রচনার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রচনা সম্প্রতি অভিযোগ করেন, তাঁকে শুধুমাত্র একজন সেলিব্রিটি হিসেবে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই এবার ফেসবুকে রীতিমতো কটাক্ষ করলেন প্রাক্তন বিধায়ক মনোরঞ্জন।