গুণ্ডা দমন আইন আনতে বিধানসভায় কাকে দেখালেন শুভেন্দু!
আজকাল | ২৯ জুন ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২১ সাল। ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় সংগঠিত ভাবে কুপিয়ে খুন করা হয় মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে। সেই ঘটনায় শেষমেশ অভিযুক্ত ১৩ জনের শাস্তি ঘোষণা করা হয়। সোমবার 'পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল' পেশ করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী-ও। বিগত রাজ্য সরকারের তোষণ নীতির ফলেই ওই ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।
বিল পেশের আগে এ দিন শুভেন্দু বলেন, "হরগোবিন্দ দাসের পরিবারকে স্যালুট করুন। আগের সরকারের আমলে মুর্শিদাবাদকে বহু হিংসা হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এই বিলের লক্ষ্য। জাতীয় সড়ক, রেল অবরোধ করা হয়। সরকারি সম্প্রত্তির ক্ষতি আটকাতে আগের সরকার কিছুই করেনি।"
তিনি আরও বলেন, "গ্যালারিতে হরগোবিন্দের স্ত্রী আজ উপস্থিত। এই গুন্ডাদমন বিল কেন দরকার তার উদাহরণ এখানে বসে আছেন। ক্রিমিনালদের সামাজিকীকরণ করেছে তৃণমূল। ওই আমলে পুলিশকেও ফাইল মাথায় দিয়ে টেবিলের তলায় লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। অপরাধ করত কয়েকজন। মূল্য দিতে হত গোটা সমাজকে। হুমায়ুন কবীরের মানুষদের বিরুদ্ধে এই আইন আনা হল। এই আইন কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ নয়। বরং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার আইন।"
উল্লেখ্য, বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকে আগ্রাধিকার বলে মনে করছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার। এ জন্য আজ, সোমবার বিধানসভায় একটি বিল পেশ করে সরকার পক্ষ। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকারের মতে, সংগঠিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপ মোকাবিলায় বর্তমানে যেসব আইন রয়েছে তা যথেষ্ট নয়। 'পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬' মূলত একটি প্রতিরোধমূলক আটকের আইন। এই আইনের কাঠামো 'জাতীয় নিরাপত্তা আইন'-এর মতোই।
সাধারণ ফৌজদারি আইনের মতো, এই বিলের লক্ষ্য কেবল অতীতের অপরাধের শাস্তি দেওয়া নয়, বরং ভবিষ্যতে ঘটতে পারে এমন কার্যকলাপ প্রতিরোধ করাও। এর আওতায় যে কাউকে আনা যেতে পারে, যদি তাদের কাজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনমনে ভীতি বা জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে, কিংবা অবৈধ খনি বা বালি উত্তোলনের মতো ঘটনা ঘটায়। এমনকি বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধও এর অন্তর্ভুক্ত।