রান্নার গ্যাসের দামে বড় স্বস্তি! আজ শহরে গ্যাসের দাম
আজকাল | ২৯ জুন ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি মাসেই স্বাক্ষর হয়েছে আমেরিকা ও ইরানের শান্তিচুক্তি। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড়সড় পতন হয়েছে। এবার আশার আলো, সম্ভবত জুলাই থেকেই দেশেও গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কমতে চলেছে। দেশজুড়ে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস, সিএনজি এবং পিএনজি-র দাম এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ সঙ্কট-পূর্ববর্তী স্তরে ফিরিয়ে এনেছে সরকার।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগ কেটে যাওয়ায় পূর্বে আরোপিত সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। গত ৭ জুন গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা বৃদ্ধির পর থেকে দেশজুড়ে আর নতুন করে দাম বাড়েনি। অন্যদিকে, ১ জুন থেকে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মে মাসের পর সিএনজি ও পিএনজি-র দামেও কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, দেশে গার্হস্থ্য এলপিজি, পিএনজি এবং সিএনজি-র ১০০ শতাংশ সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে। এর পর গ্যাসে ঘাটতির খবরও মেলেনি এবং এমনকি অনলাইন বুকিংয়ের হার বেড়ে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানিকৃত এলপিজি কার্গো দেশে পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি হতেই বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। সঙ্কটের শুরুতে স্থগিত হয়ে যাওয়া বাল্ক এলপিজি সরবরাহও বর্তমানে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চালু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরান সংঘাতের কারণে পশ্চিম এশিয়া থেকে এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল, যা ভারতের মোট রান্নার গ্যাস আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ। সাধারণ মানুষের ঘরের রান্না সচল রাখতে সরকার প্রথম দিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও শিল্পখাতে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ বন্ধ করে তা গৃহস্থালির ব্যবহারে স্থানান্তরিত করেছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরিয়ে আনা হয়। পাশাপাশি, তেল শোধনাগারগুলোকে পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের পরিবর্তে বেশি করে এলপিজি তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।