'আমি ক্ষমা চাওয়ার মতো কোনও কথা বলিনি। ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।', আজ বিধানসভার বাইরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারপার্সন ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এমন কথাই বললেন। আর ও দিকে ঠিক বিধানসভার ভিতরেই হুমায়ুনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও সেই হুঁশিয়ারির পরও নিজের চিরকালীন 'বেপরোয়া মেজাজ' ধরে রাখলেন হুমায়ুন। জানিয়ে দিলেন, ক্ষমা তিনি চাইবেন না।
কী বলেছিলেন হুমায়ুন?
রেজিনগরের সভা থেকে বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, 'ভরতপুরে ভোটে হেরেও লাফাচ্ছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি, ভোটে জিতেছেন, ভাল কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে কম আস্ফালন করতে বলতে হবে। আমি ময়দানে নামলে বিজেপির পতাকা ধরার লোক থাকবে না। আমাদের বহুবার জেল খাটা আছে।'
এখানেই শেষ না করে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ান তিনি। তাঁর বেলাগাম হুঁশিয়ারি,
'আমি যে দিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব, সে দিন এমন স্যাটা ভাঙা মার শুরু হবে, যে আপনাদের পতাকা ধরার লোকও থাকবে না।'
হুমায়ুনের আরও বক্তব্য, 'ভরতপুরে অনামিকা ঘোষ, সে ভোটে হেরেও মনে করছে আমিই বিধায়ক। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে সে দিন বলেছি, যে আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে, খুব ভাল কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করতে বলুন। আর কেস? ওরকম কেস আমাদের বহুবার জেল খাটা আছে। আমি বলেছি, আমার লিমিট যে দিন ক্রশ হয়ে যায়, মাথা যে দিন গরম হয়ে যায়, সে দিন আমি এসপি বুঝব না, মুখ্যমন্ত্রীও বুঝব না...'
আর সোমবার বিধানসভায় হুমায়ুনের এই বক্তব্যেরই চরম নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী তিনি নন। তাঁর সঙ্গে এসব করে কাজ হবে না। এই ধরনের কথাবার্তার বিরুদ্ধে তিনি 'কড়া অ্যাকশন' নেবেন। শুধু তাই নয়, আগামী সপ্তাহেই তিনি মুর্শিদাবাদে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
দমবার পাত্র নন হুমায়ুন
মুখ্যমন্ত্রীর এহেন হুঁশিয়ারির পর আজ বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন বলেন, 'FIR তো হয়েছেই। বহরমপুরে হয়েছে। ইংলিশবাজারে হয়েছে। শক্তিপুর, রেজিনগরে যে প্রশাসন আছে, তাঁরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কেস করেছে। আইন আইনের পথে চলেছে।'
এছাড়া তাঁর দাবি, বিজেপি চাইলে নিন্দা প্রস্তাব আনতে পারে। এমনকী সাসপেন্ডও করতে পারে। স্পিকারের সেই ক্ষমতা আছে। তবে তারপর ক্ষমা চাইবেন না বলেই দাবি করলেন হুমায়ুন। এখন দেখার জল কতদূর গড়ায়।