রাজ্য বিধানসভায় পাশ হল OBC আইন সংশোধনী জোড়া বিল। প্রথম বিলটি হল, 'The West Bengal Backward Classes (Other Than SC And ST) Reservation Of Vacancies In Services And Posts (Amendment) Bill 2026।' দ্বিতীয়টি হল, ‘The West Bengal Commission for Backward Classes (Amendment) Bill, 2026’। প্রথম বিলটি আনা হচ্ছে তৃণমূল জমানার ২০১২ সালের আইন সংশোধন করার জন্য। দ্বিতীয় বিলের উদ্দেশ্য, বাম আমলের ১৯৯৩ সালের আইন সংশোধন করে অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের কার্যকারিতা স্পষ্ট ও শক্তিশালী করা। এই বিল আইনে পরিণত হলে কী কী বদল আসতে পারে?
প্রথম বিল
The West Bengal Backward Classes (Other Than SC And ST) Reservation Of Vacancies In Services And Posts (Amendment) Bill 2026। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি (তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি ব্যতীত) (সরকারি চাকরি ও পদে সংরক্ষণ) (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। তৃণমূল সরকারের আমলে ২০১২ সালের আইনে কিছু পরিবর্তন আনা হবে এই বিলের মাধ্যমে। অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) সংরক্ষণ ব্যবস্থা নতুনভাবে কার্যকর করা হবে।
প্রথমত, আইনের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন নাম করা হচ্ছে ‘West Bengal Backward Classes (Reservation in Posts) Act, 2012’।
দ্বিতীয়ত, OBC কারা হবেন, তা ১৯৯৩ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস অ্যাক্ট (West Bengal Commission for Backward Classes Act) অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
তৃতীয়ত, রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে OBC-দের জন্য সংরক্ষণের শতাংশ নির্ধারণ করবে।
চতুর্থত, মোট সংরক্ষণ (SC + ST + OBC) ৫০ শতাংশ অতিক্রম করবে না।
পঞ্চমত, কমিশনের পরামর্শে সরকার OBC-দের আপেক্ষিক সামাজিক ও শিক্ষাগত ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করতে পারবে।
সর্বোপরি, OBC সংরক্ষণের জন্য শিডিউল ১-এ 'ক্যাটিগরি এ'-র আওতায় ৬৫টি এবং 'ক্যাটিগরি বি'-তে ৭৮টি জনগোষ্ঠীর তালিকা ছিল তৃণমূল আমলের আইনে। সেই শিডিউল ১ বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে নতুন বিলে।
দ্বিতীয় বিল
The West Bengal Commission for Backward Classes (Amendment) Bill, 2026। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬।
প্রথমত, এই বিলে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালের আইনের ধারা ৩-এ সংশোধন করে কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও ৩ জন সদস্য আনা হবে। এছাড়া একজন সদস্য-সচিব থাকবেন।
দ্বিতীয়ত, কোনও ব্যক্তি বা নাগরিকদের একটি শ্রেণিকে ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস বা পিছিয়ে পড়া শ্রেণি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ হলে তা পরীক্ষা করতে হবে। এই বিষয়ে কমিশনের যুক্তি-সহ সুপারিশ রাজ্য সরকারকে দিতে হবে।