• অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া তৈরিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের ভাবনা
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৯ জুন ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) বা ইউসিসি চালুর পথে আপাতত সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে চাইছে বিজেপি সরকার। সোমবার বিধানসভায় বহু প্রতীক্ষিত ইউসিসি বিল পেশ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় শুভেন্দু অধিকারী সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, বিলের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা এবং রাজ্যের সামাজিক বাস্তবতা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই এই সিদ্ধান্ত। সব সম্প্রদায়ের মতামত নিয়েই বিষয়টি নিয়ে এগোতে চায় রাজ্যের বিজেপি সরকার।

    প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ইউসিসি বিলের খুঁটিনাটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য খুব শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনপ্রসাদ দেশাইকে সেই কমিটির প্রধান করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে রাজ্য সরকারের প্রাথমিক পর্যায়ের কথাবার্তা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রাক্তন বিচারপতির সঙ্গে আরও একদফা আলোচনা করতে চাইছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। সেই আলোচনা মিটলেই কমিটির চেয়ারম্যানের নাম চূড়ান্ত করা হবে। এদিন বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশের আগে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার ভাবনা ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    উল্লেখ্য, দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডে ইউসিসি চালু হয়েছিল। উত্তরাখণ্ডে ইউসিসি চালুর আগে বিচারপতি রঞ্জনপ্রসাদ দেশাইকেই খসড়া প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার কাজে লাগাতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু সরকার। তবে উত্তরাখণ্ডের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও জনবিন্যাসগত কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফলে বাংলার বাস্তবতা, বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের স্বার্থের বিষয়টি মাথায় রেখেই বিলের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে সরকার। নবান্নের একাংশের মতে, ইউসিসি কেবল একটি আইনি সংস্কার নয়, এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়। তাই কোনও তাড়াহুড়ো না করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণ, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং সম্ভাব্য প্রভাবের মূল্যায়নের পরই বিলটি বিধানসভায় আনা হবে।

    সোমবার বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ হলেও ইউসিসি বিলকে আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টিকে সরকারের সতর্ক কৌশল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রসঙ্গত, বিজেপি তার নির্বাচনী প্রচারে ‘সকলের জন্য সমান আইন’-এর কথা বলে আসছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে বাংলার জটিল সামাজিক সমীকরণকে অগ্রাহ্য করতে নারাজ তারা। ফলে এখন নজর উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন এবং তার সুপারিশের দিকে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গের ইউসিসি বিলের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। তাই কবে এই বিল বিধানসভায় পেশ করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেল।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)