রামমন্দিরের চুরি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে মামলা। ঘটনার তদন্তভার যেন সিবিআইয়ের হাতে দেওয়া হয়, এই মর্মে আবেদন জানানো হয়েছে। সোমবার সেই মামলার শুনানি চলাকালীনই শীর্ষ আদালত জানাল, এই ঘটনায় কিছুটা দেরি হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না। উল্লেখ্য, সেই ঘটনায় উঠে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন আটজন। এই ঘটনায় ‘রাঘব বোয়াল’দের গ্রেপ্তারি চেয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস।
রামমন্দিরে চুরির ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে ইতিমধ্যেই দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। দুই আইনজীবীর দায়ের করা মামলার দ্রুত শুনানি চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে এই আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ হয়ে যায়। দুই বিচারপতির বেঞ্চের মতে, গ্রীষ্মের ছুটির পর এই মামলা সংক্রান্ত কার্যকলাপ হতেই পারে। এই সময়টুকুর জন্য মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না।
প্রসঙ্গত, সিটের রিপোর্টে উঠে এসেছে, রামমন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এই ধনরাশির একটা বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না৷ নগদ টাকা এবং গয়নার পাশাপাশি মন্দিরের হেফাজত থেকে গায়েব দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাকও। তদন্ত চলাকালীন আরও জানা গিয়েছে, ট্রাস্টের একাধিক শীর্ষকর্তা জানতেন মন্দিরের অনুদান চুরির বিষয়টি। কিন্তু পুলিশে কেন অভিযোগ দায়ের হল না? তাহলে কি চুরির ঘটনা আড়াল করতে চাইছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ? কার স্বার্থে বা কাকে বাঁচাতে অভিযোগ দায়ের হয়নি? সূত্রের খবর, অনুদান গোনার কর্মীদের বদলাতে চেয়েছিল ব্যাঙ্ক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
এখানেই প্রশ্ন রাঘব বোয়ালরা আড়ালে থেকে যাচ্ছেন না তো? কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লার সাফ কথা, “এ পর্যন্ত যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা নিতান্তই চুনোপুঁটি। রাঘব বোয়ালরা এখনও আড়ালে। যে চুরির অঙ্কটা কয়েকশো কোটি ছাড়িয়ে কয়েক হাজার কোটির গণ্ডিতে, সেই চুরিতে বড় মাথারা জড়িত আছেই। তাঁদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতেই হবে।” কংগ্রেস নেতার দাবি, দরকার পড়ল শীর্ষ আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করুক। আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হোক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত, নিজে হস্তক্ষেপ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।