চুড়োয় উঠে এবার হু হু পড়ছে সোনার দাম! ‘ভয়ে’ পুরনো গয়না বেচছে আমজনতা, তৈরি হল নয়া নজির
প্রতিদিন | ২৯ জুন ২০২৬
বছরের শুরুতে, জানুয়ারিতে বিপুল দাম উঠেছিল সোনার। তা এখন অতীত। বরং বলা যায়, রেকর্ড গড়ার পর থেকে ছবিটা পালটাতে শুরু করেছে। হু হু করে কমছে সোনার দাম। আর এহেন পরিস্থিতিতে ‘ভয়ে’ অনেকেই সোনার গয়না বিক্রি করে দিচ্ছেন!
সোমবার ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮১০ টাকা। সর্বকালীন যে উচ্চতায় সোনালি ধাতু পৌঁছেছিল, তার তুলনায় অনেকটাই কম। আর এই পরিস্থিতিতেই জন্ম নিয়েছে ‘ভয়’। কী সেই ভয়? ভয়টা হল যদি সোনার দাম আর কমে যায়, তাহলে তা বেচে খুব বেশি টাকা পাওয়া যাবে না। এপ্রিল থেকে জুনের হিসেব বলছে বিক্রি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। মোটামুটি প্রায় ৫০ টন পুরনো সোনা বিক্রি হয়েছে বাজারে।
উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ হলেও চাহিদার সিংহভাগ স্বর্ণই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমান অর্থবর্ষে প্রায় ৭২.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণ আমদানি করেছে ভারত। ভারতীয় পরিবারগুলির কাছে আনুমানিক ৩০,০০০ টন স্বর্ণ গচ্ছিত রয়েছে।
এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, জমিয়ে রাখা সোনার গয়না এভাবে বিক্রি করে দেওয়ার প্রবণতা কি ঠিক? একটা কথা শুরুতেই বলে দেওয়া যায়। কারও ব্যক্তিগত আর্থিক সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই তিনি নিজের কাছে থাকা সোনা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সব সময়ই বলেন অন্যথা, স্রেফ তাৎক্ষিণ ট্রেন্ডে গা ভাসানোটা সব সময় খুব লাভজনক নয়। স্বল্পমেয়াদী দর-পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি না করে বরং ব্যক্তিগত প্রয়োজনের উপরে ভিত্তি করাই ভালো। যাঁরা এখন আর পুরনো গয়না ব্যবহার করেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে বর্তমান বাজারদর পড়ে থাকা সম্পদকে অর্থে রূপান্তরের একটি সুযোগ হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে, মুদ্রাস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মাথায় রাখা দরকার।