কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কি আরএসএসের প্রচার-মঞ্চ ! 'শ্যামাপ্রসাদ' ইস্যুতে সরব এসএফআই
eTV Bharat | ২৯ জুন ২০২৬
কলকাতা, 29 জুন: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ' উদযাপনকে ঘিরে শুরু হল নতুন বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও বিনায়ক দামোদর সাভারকর-সহ একাধিক ব্যক্তিত্বের বই বিক্রিকে কেন্দ্র করে তীব্র আপত্তি তুলেছে এসএফআই। ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
গত 27 জুন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট কক্ষে 'শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ' উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ, রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস এবং মওলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজের অধিকর্তা ড. স্বরূপ প্রসাদ ঘোষ-সহ বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সমাবর্তন ভাষণ সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত সেনেট হলের বাইরে বই বিক্রিকে কেন্দ্র করে। এসএফআইয়ের দাবি, সেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও সাভারকরের লেখা বা তাঁদের সম্পর্কিত বই বিক্রি হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে আঘাত করা হয়েছে।
এসএফআইয়ের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সম্পাদক অমিত কুমার ঘোষ দাবি করেন, ব্রিটিশ আমলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা এবং সাভারকরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের ভাবধারাকে ঘিরে দেশজুড়ে মতভেদ রয়েছে, তাঁদের প্রচারের সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই করে দিচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেনেট হলের সামনে বই বিক্রির অনুমতি পাওয়া প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে আরএসএসের সম্পর্ক রয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি প্রিয়াঙ্কা ঘোষ বলেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বদেশি চেতনা এবং প্রগতিশীল ছাত্র-আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনও রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক মতাদর্শের প্রচারের ক্ষেত্র হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের পথে হাঁটারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অন্যতম কনিষ্ঠ উপাচার্য ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যদিকে, সাভারকরকে নিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। একাংশ তাঁকে জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে দেখলেও, অন্য অংশ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্রিটিশ সরকারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করে।
এই আবহে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে 'শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ' উদযাপন এবং বই বিক্রিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। তবে এসএফআইয়ের অভিযোগের বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা অনুষ্ঠানের আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।