বিধানসভায় বলার সুযোগ পেলেন না কুণাল, অভিযোগের আঙুল 'বিদ্রোহী' শিবিরের দিকে
eTV Bharat | ২৯ জুন ২০২৬
কলকাতা, 29 জুন: বিধানসভায় এখন তৃণমূল শিবির দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূল বিধায়কের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কালীঘাট তৃণমূল। এবার ঋতব্রতগোষ্ঠীর কলকাঠিতে বলতেই পারলেন না বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বরং কালীঘাট তৃণমূলের তরফ থেকে পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁর নাম দিলেও বিধানসভায় বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক মুহা আখরুজ্জামান বেলেঘাটার বিধায়কের নাম বাদ দিয়ে দেন ৷ বদলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম যুক্ত করা হয় ৷ তাতেই যত গোল বাধে।
এদিন গুন্ডাদমন বিলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলার সময় বলেন, তাদের দলের তরফ থেকে কুণাল ঘোষের নাম দেওয়া হলেও তালিকায় তার বদলে আমার নাম দিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ এভাবে হতে পারে না। তিনি বলেন, আমি অধ্যক্ষকে অনুরোধ করছি আমার সময় কুণাল ঘোষকে বক্তব্যের জন্য দেওয়া হোক ৷ তিনি একথা বলতেই বিধানসভায় শাসক দলের সদস্যরা হইহই করে ওঠেন। অধ্যক্ষ তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। এরই মাঝে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, এমনটা হয় না। বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক যার নাম দিয়েছে, তাঁকেই বলতে হবে। এভাবে অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে বক্তা পরিবর্তন করা যায় না।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, কিন্তু আমার দলের তরফ থেকে যাকে বক্তা হিসেবে ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল, তার নাম বদলে আমার নাম করা হয়েছে এমনটা করা যায় না। অধ্যক্ষ এই সময় বারংবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করেন।
এর পরেও নিজের বক্তব্য চালিয়ে যাননি শোভনদেব ৷ বরং তিনি প্রতিবাদে না-বলে বসে পড়েন। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ এদিন বক্তা হিসাবে গুন্ডাদমন নিয়ে আনা বিলে সংশোধনী দিলেও আলাদা করে বলার সুযোগ পাননি। আর এই ঘটনার ফলে বিধানসভার অন্দরে কালীঘাট তৃণমূলের অংশীদারি হয়নি।
এদিন আলোচনার শুরুতেই গুন্ডাদমন নিয়ে বিজেপি সরকারের আনা এই আইনকে 'রাওলাট আইনট-এর সঙ্গে তুলনা করেন কুণাল ঘোষ।