: ‘এ কেমন বাবা-মা! এ কেমন পরিবার! এ কেমন বিচার!’ গত রবিবারের এক নির্মম ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বীরভূমের পাথরচাপুরি এলাকার বাসিন্দাদের মুখে। সমাজমাধ্যমেও নেটিজেনরা ক্ষোভ ও ধিক্কার উগরে দিচ্ছেন এই অমানবিক ঘটনার বিরুদ্ধে। যে ঘটনা ঘটেছে, তা কোনও সভ্য সমাজের পক্ষে কখনওই কাম্য নয়।
রবিবার পাথরচাপুরি দাতা সাহেবের মাজার সংলগ্ন একটি জায়গায় এক কন্যাসন্তানকে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশুটিকে ওভাবে পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। প্রতিবেশীরা বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তৎক্ষণাৎ খবর দেন স্থানীয় থানায়। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তারা শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তড়িঘড়ি সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটি শারীরিক দিক থেকে বিশেষভাবে সক্ষম এবং তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর ঘা ও ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, শিশুটি বিশেষভাবে সক্ষম এবং অসুস্থ হওয়ার কারণেই তার নিজের পরিবার বা বাবা-মা তাকে এই নির্মমভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে ফেলে দিয়ে চলে গেছে।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় উদ্ধারকারীরা। তাদের বক্তব্য, যে বা যারাই এই কাজ করে থাকুক না কেন, তা চরম অপরাধ। একটা নিষ্পাপ অসুস্থ শিশুকে এভাবে মৃত্যুর মুখে ফেলে দেওয়া কোনও সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কাজ হতে পারে না। দোষীদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আশেপাশের এলাকার খোঁজখবর নিয়ে শিশুটির পরিবারের পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল, আজও আমাদের সমাজের একাংশের মানসিকতা কতটা নিষ্ঠুর ও আদিম রয়ে গেছে।