• স্নানযাত্রার দিনেই পোড়ামায়ের বাৎসরিক পুজো, ১০৮ ঘড়া গঙ্গাজলে বটবৃক্ষের অভিষেক
    News18 বাংলা | ২৯ জুন ২০২৬
  • জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার দিনই নবদ্বীপে বিদগ্ধ জননী মা পোড়ামার বাৎসরিক মহোৎসব। ১০৮ কলসি গঙ্গাজলে জলাভিষেক, ভোর থেকেই ভক্তদের ঢল নবদ্বীপের পোড়ামাতলায়। সোমবার জগন্নাথদেবের পবিত্র স্নানযাত্রার পাশাপাশি নবদ্বীপে পালিত হচ্ছে শহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বিদগ্ধ জননী মা পোড়ামা-র বাৎসরিক বিশেষ উৎসব। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ভোর থেকেই পোড়ামাতলা এলাকায় ভক্তদের ভিড় জমতে শুরু করেছে। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ১০৮ ঘড়া গঙ্গাজল এনে মা পোড়ামার পবিত্র বটবৃক্ষের গোড়ায় জলাভিষেক।

    শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কীর্তন ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এই প্রাচীন আচার। মা পোড়ামা নবদ্বীপবাসীর কাছে শুধু কালীমাতা নন, তিনি শহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী এবং ‘বিদগ্ধ জননী’ নামে সুপরিচিত। নবদ্বীপ একসময় ন্যায়, দর্শন ও সংস্কৃত শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পণ্ডিতেরা শাস্ত্রচর্চা ও বিতর্কসভায় অংশ নেওয়ার আগে মা পোড়ামার আশীর্বাদ গ্রহণ করতেন বলেই দেবী ‘বিদগ্ধ জননী’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। মা পোড়ামার মন্দিরের অন্যতম বিশেষত্ব হল, এখানে প্রচলিত অর্থে কোনও পূর্ণাঙ্গ মূর্তি নেই। প্রাচীন বটবৃক্ষের নীচে ঘট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দেবীর আরাধনা হয়ে আসছে।

    জনশ্রুতি অনুযায়ী, বহু শতাব্দী আগে এই বটবৃক্ষ অগ্নিদগ্ধ হলেও পুনরায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। সেই থেকেই দেবীর নাম হয়ে যায় ‘পোড়ামা’। এই বটবৃক্ষকে কেন্দ্র করেই আজও ভক্তদের অগাধ বিশ্বাস ও ভক্তি। উৎসব উপলক্ষে সকাল থেকেই ১০৮টি কলসিতে গঙ্গাজল সংগ্রহ করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে মন্দির প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। পরে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে বটবৃক্ষের গোড়ায় সেই গঙ্গাজল নিবেদন করা হয়। বহু ভক্তের বিশ্বাস, এই জলাভিষেকে অংশগ্রহণ করলে সংসারের অশান্তি দূর হয় এবং মনস্কামনা পূর্ণ হয়।

    জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা এবং মা পোড়ামার বাৎসরিক উৎসব একই দিনে হওয়ায় সোমবার নবদ্বীপ শহরে উৎসবের আবহ আরও বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি নদিয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী নবদ্বীপে আসেন। মন্দির চত্বরে বিশেষ পুজো, আরতি, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভক্তদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন দর্শনের জন্য প্রশাসন ও পুলিশও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ধর্মীয় ঐতিহ্য, লোকবিশ্বাস এবং নবদ্বীপের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য নিদর্শন এই বাৎসরিক উৎসব। জগন্নাথ স্নানযাত্রার সঙ্গে একই দিনে পালিত হওয়ায় এদিন নবদ্বীপ কার্যত এক বৃহৎ ধর্মীয় মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।
  • Link to this news (News18 বাংলা)