বস্তা বস্তা ফাইলের পাহাড় উধাও, এই সরকারি অফিস দেখে ছোখ জুড়িয়ে যাবে
News18 বাংলা | ২৯ জুন ২০২৬
সাধারণত সরকারি অফিসগুলিতে শাসক দলের নেতা ও মন্ত্রীদের ছবি দেখা যায়। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের প্রতিটি তলা পটচিত্রসহ নানা ধরনের ছবিতে সুসজ্জিত। সরকারি অফিস মানেই ফাইলের পাহাড়, চারদিকের দেওয়ালে পানের পিক আর কেবলই শাসক দলের নেতা বা মন্ত্রীদের বাঁধানো ছবি। কিন্তু সেই চেনা ছবিকে এক লহমায় বদলে দিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। তমলুকের এই প্রশাসনিক ভবনে পা রাখলে মনেই হবে না যে আপনি কোনও সরকারি দফতরে এসেছেন। চারদিকের পরিবেশ দেখে মনে হবে, আপনি ভুল করে হয়ত কোনও নামী আর্ট গ্যালারি বা শিল্পকলার প্রদর্শনী শালায় ঢুকে পড়েছেন।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের এই নতুন রূপ এখন জেলা ছাড়িয়ে গোটা রাজ্যে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভবনের প্রতিটি তলা সেজে উঠেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পটচিত্র এবং হরেক রকমের আধুনিক ও লোকশিল্পের সুনিপুণ কারুকার্যে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বরাবরই তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও লোকশিল্পের জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে চন্ডিপুরের পটচিত্রের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। জেলা পরিষদের দেওয়ালে দেওয়ালে সেই ঐতিহ্যকেই সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পীরা। ভবনের বিভিন্ন করিডোরে শোভা পাচ্ছে মনমুগ্ধকর সব পটচিত্র। শুধু পটচিত্রই নয়, আরও অন্যান্য শিল্পীদের আঁকা ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষ যেখানে নানা সরকারি কাজে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন, সেখানে এই নান্দনিক পরিবেশ তাঁদের একঘেয়েমি ও মানসিক ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দিচ্ছে। সাধারণত অন্যান্য সরকারি অফিসে কান পাতলে যেখানে রাজনৈতিক আলোচনা বা দেওয়ালে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পোস্টার-ছবি চোখে পড়ে, সেখানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ হেঁটেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে। যেখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সংস্কৃতিকে। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের পেছনে বর্তমান ডিজিটাল যুগে গ্রামীণ লোকশিল্পীরা যখন অস্তিত্বের সংকটে ভুগছেন, তখন সরকারি ভবনে তাঁদের এই কাজকে তুলে ধরে তাঁদের নতুন উপার্জনের পথ ও সম্মান দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ সেজে উঠেছে নতুনভাবে। লাগানো হয়েছে জেলার পটচিত্র শিল্পীদের হাতে আঁকা স্বাধীনতা সংগ্রামের ছবি। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত জানান, “জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসেন তাদের সমস্যার সমাধানের জন্য। ফলে তাদের সামনে যাতে জেলার শিল্পীদের এই যে পটচিত্র আঁকার প্রতিভা এটা একদিকে যেমন তুলে ধরা হবে তেমনি স্বাধীনতার সংগ্রামের যে ইতিহাস সেটাও মানুষ জানতে পারবে।” পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের এই শিল্পভাবনা আগামী দিনে অন্যান্য সরকারি দফতরের জন্যও একটি আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। জেলা পরিষদ ভবনটি তারই এক অনন্য নিদর্শন।