ঋতভাস চট্টোপাধ্যায়
মেয়ের খোঁজ পাচ্ছেন না প্রায় তিন মাস। হন্যে হয়ে ঘুরছেন বিভিন্ন জায়গায়। সেই অসহায়তার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কি মুনাফা লোটার চেষ্টা? সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিভিন্ন লোকের ফোন কল আসছে নিয়মিত। কেউ বলছেন মেয়েকে এখানে দেখেছি, কেউ বলছেন মেয়েকে ওখানে গেলে পাওয়া যাবে? যে কোনও তথ্যকেই খড়-কুটোর মতো আঁকড়ে ধরছেন অসহায় বাবা। যদি খোঁজ মেলে মেয়ের। এ সবের মাঝেই নতুন বিপত্তি হাজির।
সিনহা পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সিউড়ির এক ব্যক্তি নিখোঁজ অমৃতা সিনহার বাবা অর্ধেন্দু সিনহাকে নিয়ে গিয়েছিলেন কচুজোড় এলাকার এক মৌলবীর কাছে। সেই মৌলবীর কাছে গেলে ওঁকে (অমৃতার বাবা) বলা হয়, কুড়ি হাজার টাকা দিতে হবে। তাঁর বসত বাড়িটি ‘বেঁধে দেওয়া হবে’। তা হলে আর অশুভ শক্তির ছায়া বাড়ির দিকে পড়বে না। মেয়েও নিজেই বাড়িতে ফিরে আসবেন।
অন্য দিকে, অর্ধেন্দুর স্ত্রী সুপ্রিয়া সিনহাকেও একই ভাবে যেতে বলা হয়েছিল মুর্শিদাবাদের একটি আশ্রমে। সেখানে পৌঁছনোর পরে সাধকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আগে ৫০ টাকা এন্ট্রি ফি দেওয়ার কথা বলা হয়। এর পরে শুরু হয় ‘প্যাকেজ’ নিয়ে কথা। এন্ট্রি ফি দেওয়ার পরে সেই সাধক তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন। সমস্যার সমাধানের জন্য দিতে হতে পারে, আরও ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।’
মেয়ে হারিয়ে যাওয়ার পরে আর্থিক ভাবেও সঙ্কটে রয়েছেন অসুস্থ দম্পতি। আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অর্থ থেকেই কোনওরকমে চলছে সংসার। সেই পরিস্থিতিতে এতগুলো টাকা দেবেন কোথায় থেকে? স্বাভাবিক ভাবেই এই ‘অসাধু’ চক্রের ফাঁদে পা না দিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তাঁরা।
অর্ধেন্দু বলেন, ‘অনেকগুলো টাকা চেয়েছিল, এত টাকা দেবো কোথা থেকে? আমি তো এখন নিঃস্ব। তাই তাঁদেরকে কিছু করতে হবে না বলেই বাড়ি চলে এসেছি। তবে এমনও অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ, সাধক রয়েছেন যাঁরা আমার এই পরিস্থিতির কথা শোনার পর থেকে মানসিক ভাবে যেমন আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, ঠিক তেমনি আর্থিক ভাবেও সাহায্য করেছেন।’
বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য শুভাশিস গড়াই বলেন, ‘যে কোনও মানুষের মানসিক দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর অপেক্ষাতেই সবসময় থাকে এই সমাজের স্বার্থান্বেষী মানুষেরা। তাঁরা পুঁজি করে অসহায়ের দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাসকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারটির ওঁদের কাছে যাওয়াটা কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়। তবে পরিবারের উচিত প্রশাসনের ওপর ভরসা রাখা। এবং মেয়েটিকে খুঁজে বার করা।’
উল্লেখ্য, বীরভূমের বাসিন্দা অর্ধেন্দু সিনহার মেয়ে অমৃতা সিনহা গত তিন মাস ধরে নিখোঁজ। বছর চব্বিশের তরুণী অমৃতা সিনহা গত ১৩ মার্চ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। বীরভূম জেলা পুলিশ একটি টিম গঠন করে তল্লাশি চালাচ্ছে।