তারাতলা দুর্ঘটনায় এর আগে বিধানসভায় ‘কালী’ বলে উল্লেখ করে কালীচরণ বন্দ্য়োপাধ্যায়ের নাম বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি ছিলেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরসভার দায়িত্বে থাকার সময়ে বেলাগাম দুর্নীতি করার অভিযোগ উঠেছে কালীচরণের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। সোমবার বিধানসভায় সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে উঠে এল পেন ও দোয়াতের প্রসঙ্গ। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পেন যদি ফিরহাদ হাকিম হন, তাহলে দোয়াতের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীর সঙ্গে যদি পেনও যায়, তাহলে দোয়াতকেও যেতে হবে।’ যদি তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর সরকার প্রমাণ ছাড়া কোনও পদক্ষেপ নেবে না। প্রমাণ জোগাড় করা হচ্ছে, সেটা জোগাড় হলে কাউকে ছাড়়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
কালীচরণ গ্রেপ্তারির পরে মুখ খুলেছিলেন মমতাপন্থী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, ‘শুধু কালীকে ধরলে হবে? আসল দোয়াত, পেন আর কলমটা কোথায়? কালিকে দোয়াতে রাখতে হয়। আসল দোয়াত ও পেনকেও ধরুন।’ রাজনৈতিক মহল সূত্রের খবর, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। এক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় ‘ছায়াসঙ্গী’ ফিরহাদ এখন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন একাধিকবার। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার একটি অনুষ্ঠানে প্রাক্তন মেয়র হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
এ দিন গুন্ডাদমন বিল নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই আইন কেবলমাত্র গুন্ডাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিতে এই আইন ব্যবহার হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করব না।’ নাম না করে সন্দেশখালির ঘটনায় জড়িত শাহজাহান, জীবনতলার শওকত মোল্লা, ফলতার জাহাঙ্গির খানের প্রসঙ্গ টেনে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘এই একই পরিণতি ওই নওদার এমএলএ-র হবে। যদি ভাষা সংযত না করে।’ গুন্ডা মুক্ত বাংলার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন বিধানসভায় ধ্বনি ভোটে পাস হয়েছে গুন্ডাদমন বিল। বিলের সমর্থনে ভোট পড়েছে ১৭৬টি ভোট, বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৪১টি। ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন ২০ জন।