আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির বাড়িতে গভীর রাতে পুলিশের তল্লাশির প্রসঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ এবং অডিও-ভিডিও সংরক্ষণের নির্দেশ দিল আদালত।
আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গভীর রাতে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে তল্লাশি নিয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে পুলিশকে।
তার দু’সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দিতে হবে মামলাকারী পক্ষকে। সোমবার এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের তরফে।
জানানো হয়েছে, তল্লাশির সময়ের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং অডিয়ো-ভিডিয়ো রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে পুলিশকে। এদিন অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত।
তাঁর দাবি, সুমিত রায়ের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি করতে গিয়েছিল। যে এফআইআরের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে সেখানে তাঁর মক্কেলের নাম নেই। শুধুমাত্র সুমিত রায়ের নাম রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সুমিত রায় অভিষেকের বাড়িতে রয়েছেন এই সন্দেহেই গভীর রাতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ভোরবেলা দরজা খোলার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও ডাকা হয়।
এমনকী, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় অপব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। উল্লেখ্য, বালি পাচার এবং তোলাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে।
পুলিশ সূত্রের খবর, যখন অভিষেক ব্যানার্জি ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে যান, তখনও সুমিত রায়কে তাঁর সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুমিতের নাম জড়াতেই তাঁর খোঁজে সক্রিয় হয় প্রশাসন।
অভিষেক যখন ভবানী ভবনে ঢুকছিলেন, ঠিক তখনই রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স-এর একটি দল সুমিতের খোঁজে সেখানে পৌঁছায়। এরপর সুমিতের খোঁজে শনিবার ভোররাতে সোজা অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে হানা দেয় শালবনি থানার পুলিশ।
এই অভিযানের খবর পেয়েই তড়িঘড়ি অভিষেকের বাড়ি পৌঁছান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি।কালীঘাটে নিজের বাসভবনে এই নজিরবিহীন পুলিশি অভিযান এবং গেটের তালা ভাঙার ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, ‘আমি কাউকে লুকিয়ে রেখেছি কি না, তা দেখতে আমার পুরো বাড়ি সার্চ হয়েছে।’ ঘটনার পর পুলিশের অফিশিয়াল ‘সিজার লিস্ট’ সামনে আসতেই শোরগোল আরও বেড়েছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানো হলেও, সেই সরকারি নথিতে স্পষ্ট হাতে লিখে দেওয়া হয়েছে, অভিষেকের বাড়ি থেকে কোনও আপত্তিকর বা সন্দেহজনক কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।