• ফিরহাদ হাকিমের ডানহাত কালীচরণের বাড়িতে চলল তল্লাশি
    আজকাল | ৩০ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: তারাতলায় গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করেছে সিট। ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া কলকাতা পুরসভার ওএসডি কালীচরণ ব্যানার্জির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।

    ওই সমস্ত নথি ও মোবাইলের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের দাবি, কালীচরণ কার নির্দেশে কাজ করতেন, সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এই বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ। এদিকে, তারাতলার গুদাম সংক্রান্ত সরকারি নথিপত্রের জন্য কলকাতা পুরসভার কাছে আবেদন জানিয়েছে তদন্তকারী দল।

    তবে এখনও পর্যন্ত সেই নথি সিটের হাতে পৌঁছয়নি। মামলার তদন্তে বহেরা ব্রাদার্সের দফতরেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেখান থেকেও বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    ওই নথি খতিয়ে দেখার পর অয়ন ট্রেডার্সের সঙ্গে বহেরা ব্রাদার্সের কতদিনের চুক্তি ছিল, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। বহেরা ব্রাদার্সের কর্ণধার শম্ভুনাথ বহেরাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    তবে তিনিও তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন না বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃত দালাল মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিল। তবে ওই প্রকল্পের প্ল্যান পাশ করানোর জন্য ঠিক কত টাকা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও মুখ খুলতে চাইছেন না অভিযুক্ত।

    অন্যদিকে, নির্মাণকাজের আগে সয়েল টেস্ট হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। সয়েল রিপোর্ট কী ছিল, তা জানতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পোর্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    পাশাপাশি, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী দু’তলা ঢালাই হওয়ার কথা থাকলেও কীভাবে তিন তলা পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ চলছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    এখনও পর্যন্ত ঘটনায় মোট পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কলকাতা পুরসভার লাইসেন্স দপ্তরে কর্মরত এক আধিকারিকও রয়েছেন। তাঁর কাছ থেকেও নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

    তারাতলার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারির পরেই কলকাতা কর্পোরেশনের ওএসডি অর্থাৎ অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি কালীচরণ ব্যানার্জিকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশ।

    সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে আটক করা হয় কালীচরণকে। তাঁকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তারাতলা কাণ্ডে গঠিত সিট। তার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কালীচরণকে।

    জানা গিয়েছে, এই কালীচরণ কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ডানহাত ছিলেন। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে শোনা গিয়েছিল কালীচরণের নাম।

    তিনি বলেছিলেন, ‘কেএমসি-তে কী হয়েছে আমরা জানি না? কালীকে তুললে সব বেরিয়ে যাবে। কলকাতা কর্পোরেশনে কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। আর কালী আপয়েন্টেড বাই ক্যামাক স্ট্রিট, সবাই জানে। আর এই কালী, বাইপাসের পাশে আপনাদের তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে। এখান থেকে টাকাটা তুলে, ওখানে পাঠায়। আমরা সব জানি।’

    শুভেন্দু সরকারের দু’মাসের মাথায় তারাতলার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘটনার ঠিক পরের দিনেই, বিধানসভায় যেমন ঘটনার বিবরণ, ক্ষতিপূরণ, সকলের তৎপরতার খতিয়ান তুলে ধরলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তেমনই নিশানা করলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও।

    আর তার মাঝেই উঠে আসে আরও এক নাম, ‘কালী’। প্রথমে ভূমি রাজস্ব দপ্তর, তারপর পুলিশ এবং আবার ফিরে ভূমি রাজস্ব দপ্তরে আসেন তিনই। ২০১০ সাল থেকে পুরসভায় কাজ শুরু করেন তিনই।

    এক সময়ে ফিরহাদ হাকিমের আপ্ত সহায়ক পদেও ছিলেন বলে জানা যায়। তথ্য, ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পুরসভার মেয়র হওয়ার পর, কালী হন তাঁর ওএসডি। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও অভিষেক ব্যানার্জির নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা যায়।  
  • Link to this news (আজকাল)