• আত্মঘাতী ঝালমুড়ি বিক্রেতার পরিবারের পাশে গার্গী
    আজকাল | ৩০ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন তিনিই। ট্রেনে ঝালমুড়ি বিক্রি করেই চলত সংসার। কিন্তু হকারি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, রেলের কড়াকড়ি এবং জরিমানার চাপের মধ্যে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে চরম সিদ্ধান্ত নিলেন ৫৯ বছরের কার্তিক সাউ।

    তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে কাঁকিনাড়ার ফিঙ্গাপাড়া এলাকায়। রবিবার শিয়ালদহ মেন শাখার কাঁকিনাড়া স্টেশনের কাছে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন কার্তিক সাউ। তাঁর বাড়ি কাঁকিনাড়ার ফিঙ্গাপাড়া পদ্মপুকুর রোডে। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন তিনি। সেই আয়েই চলত তাঁর পরিবার।

    পরিবারের দাবি, সম্প্রতি রেলের তরফে ট্রেনে হকারি নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন কার্তিকবাবু। গত সপ্তাহে রেলের পক্ষ থেকে তাঁকে ১৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। জরিমানার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায় তাঁর।

    পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, রেলের তরফে হকারি বন্ধের নির্দেশ নিয়ে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। এই বয়সে কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে হতাশার কথা বাড়িতেও জানিয়েছিলেন। এরপরই রবিবার কাঁকিনাড়া স্টেশনের কাছে আপ মা-তারা এক্সপ্রেসের সামনে ঝাঁপ দেন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    কার্তিক সাউয়ের পরিবারে রয়েছেন অসুস্থ স্ত্রী, বৃদ্ধা মা এবং বিবাহিত ছেলে। তাঁর স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত। ছেলেও সামান্য গাড়ি চালানোর কাজ করে কিছু টাকা উপার্জন করেন।

    একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে যে বাড়িতে পরিবারটি থাকে, তার মাসিক ভাড়া ৪ হাজার টাকা। এখন মায়ের চিকিৎসা এবং সংসারের দায়িত্ব কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে দিশেহারা পরিবার।

    এদিন মৃত হকারের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বাম নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়-সহ বাম কর্মীরা। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাঁরা।

    গার্গীর অভিযোগ, উচ্ছেদের আতঙ্কে ইতিমধ্যেই চারজন হকারের মৃত্যু হয়েছে। হকারদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে সকলকে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার ডাক দেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝালমুড়ি খেয়ে প্রচারের আলোয় এসেছিলেন, অথচ আজ সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতাকেই জীবন দিতে হল। মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু এমন পরিবর্তন চায়নি।’

    বাম নেত্রীর দাবি, নতুন সরকার আসার দেড় মাসের মধ্যেই হকার উচ্ছেদে বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ১ লক্ষের বেশি মানুষ সমস্যার মুখে পড়েছেন। রেলের কাছে আলোচনা ও সমীক্ষার মাধ্যমে হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজার আবেদনও জানান তিনি।
  • Link to this news (আজকাল)