• পায়ে হেঁটে ডাক্তার দেখানোর জন্য বেরিয়ে ছিলেন, ট্রেনে হঠাৎ লুটিয়ে পড়লেন! হাহাকার স্বামীর
    News18 বাংলা | ৩০ জুন ২০২৬
  • চিকিৎসার আশায় স্বামীর সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। গন্তব্য ছিল কল্যাণীর জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতাল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই ট্রেনের কামরায় থেমে গেল জীবনের পথচলা। সোমবার সকালে শিয়ালদহ–রানাঘাট মেইন লাইনের কল্যাণীগামী ট্রেনে এক গৃহবধূর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা থানার রামপুর এলাকায়।

    মৃতার নাম কল্যাণী দাস (৫৫)। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য এদিন স্বামী যুগল দাসের সঙ্গে রামপুর থেকে বাসে কাঁকিনাড়া স্টেশনে পৌঁছে কল্যাণীগামী ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনে ভিড় থাকায় যুগল দাস সাধারণ কামরায় এবং কল্যাণী দাস মহিলা কামরায় যাত্রা করছিলেন।

    ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ পরেই মহিলা কামরায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কল্যাণী দাস। আচমকাই তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে সহযাত্রীরা দ্রুত তাঁকে তুলে বসান এবং প্রাথমিকভাবে জল দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। ট্রেনটি কল্যাণী স্টেশনে পৌঁছতেই রেল পুলিশ ও স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে কল্যাণী থানার পুলিশ এবং স্বামী যুগল দাস তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কল্যাণীর জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে ভেঙে পড়েন যুগল দাস। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। শোকাহত স্বামী জানান, কয়েক মাস আগেই তাঁদের যুবক পুত্রের মৃত্যু হয়েছিল। সেই গভীর মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেননি কল্যাণী দাস। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার আশাতেই এদিন তাঁরা কল্যাণীতে এসেছিলেন।

    পরিবারের দাবি, যিনি নিজের পায়ে হেঁটে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, তিনি আর জীবিত অবস্থায় ফিরলেন না। ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে রামপুর এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি অসুস্থতাজনিত মৃত্যুই বলে মনে করা হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)