• কাঠফাটা রোদে ডিউটি! সিভিক ভলান্টিয়ার, ট্র্যাফিক পুলিশদের জন্য বিশেষ উপহার
    News18 বাংলা | ৩০ জুন ২০২৬
  • : চড়চড়িয়ে বাড়ছে গ্রীষ্মের দাবদাহ। বেলা বাড়লেই রোদের তেজে রাস্তায় টেকা দায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু এই প্রবল গরমের মধ্যেও এক মুহূর্তের জন্য বিশ্রাম নেই তাঁদের। মাথায় সামান্য একটি টুপি পরে, কাঠফাটা রোদকে উপেক্ষা করেই রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে নিরলসভাবে যানজট সামলাচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা। প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করা সামনের সারির এই যোদ্ধাদের এবার একটু স্বস্তি দিতে এগিয়ে এলেন সমাজের একদল পেশাদার মানুষ। যাঁদের মধ্যে কেউ পেশায় আইনজীবী, কেউ বা আবার অধ্যাপক। নিজেদের পেশাগত জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও সমাজসেবায় বিন্দুমাত্র ছেদ পড়তে দিলেন না তাঁরা।

    সম্প্রতি মেদিনীপুর শহরের রাঙ্গামাটি এলাকায় এমনই এক মানবিক উদ্যোগের সাক্ষী থাকলেন শহরবাসী। প্রখর রোদ ও গরমের হাত থেকে সামান্য স্বস্তি দিতে প্রায় পঞ্চাশেরও বেশি পুলিশ ও ট্রাফিক কর্মীদের হাতে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলে দিলেন এই মানুষেরা। সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং নিজস্ব খরচে তাঁরা এই গরম থেকে বাঁচার সামগ্রীগুলি তুলে দেন ওই কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের হাতে। হাঁসফাঁস করা গরমে এমন অপ্রত্যাশিত সাহায্য পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি ট্রাফিক কর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়াররাও।

    তবে এটাই প্রথম নয়, পেশাগত জীবনের বাইরে গিয়ে সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ তাঁদের বরাবরই রয়েছে। এই দলটি এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেছে। কখনও রাস্তার অবলা পথকুকুরদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন, তো কখনও আবার সমাজের পিছিয়ে পড়া অসহায় মানুষদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা। এবার সেই সেবার তালিকায় যুক্ত হলেন রোদ-জল-বৃষ্টিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক কর্মীরা।

    উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, তাঁদের এই প্রয়াস শুধুমাত্র রাঙ্গামাটি এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিনে মেদিনীপুর শহর এবং তার সংলগ্ন অন্যান্য এলাকাগুলিতেও কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। নিজেদের শত ব্যস্ততার মাঝেও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই পেশাদার মানুষগুলো যেভাবে এগিয়ে এসেছেন, তা শহরের সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)