২১ জুলাই কারা পালন করবেন, তা নিয়ে দুই তৃণমূল শিবিরের টানাপোড়ন চলছে। বরাবর ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া চত্বরে এই অনুষ্ঠান করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরও সেই একই এলাকায় ২১ জুলাই পালন করতে চান। তার মাঝেই রবিবার সকালে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই ফিতে নিয়ে মাপজোক করতে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে। এই নিয়ে বেলেঘাটার বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র রোষের মুখে পড়লেন।
২১ জুলাই নিয়ে কুণাল ঘোষকে ভর্ৎসনা
বিধানসভায় সোমবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আমায় বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন ১০৪ বার হাইকোর্টে যেতে হয়েছিল। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ দিনের মধ্যে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ চেয়েছিলেন। আমার ধারণা ছিল প্রচুর লোক হবে তাই বলেছিলাম, ওয়াই চ্যানেলে করুন। কিন্তু তা বলে এবার আবেদন জানিয়েই সঙ্গে সঙ্গে কলকাতার রাস্তায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ফিতে নিয়ে চলে যাবেন? মামারবাড়ি নাকি? কে অধিকার দিয়েছে আপনাকে?'
২১ জুলাই কোথায় হবে?
মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, 'পারমিশন চান, কোথায় জায়গা দেব বলে দেব। আপনাদের প্রচুর লোক, ৩০ লক্ষ লোক হয়। ২০১১ সালে তো ব্রিগেডে করেছিলেন ২১ জুলাই, এবারেও চলুন না ব্রিগেডে যাই। দম থাকলে লড়ুন।' তাঁর কটাক্ষ, 'লোক আসবে না আপনাদের।'
ফিরহাদকে গ্রেফতারির দাবি প্রসঙ্গ
প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেফতারির জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। তৃণমূল (মমতাপন্থী) বিধায়ককে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, '৫টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে প্রাক্তন মেয়রকে। এমন বলেছিলেন। তাই নাকি? তাহলে আপনি এখানে চলে আসুন। আপনাদের তো আনেনি মানুষ।' এরপরই তাঁর সংযোজন, 'কালী তো গিয়েছে, দোয়াত আর পেন যায়নি কেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পেন যদি ফিরহাদ হাকিম হয় তাহলে দোয়াতের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীর সঙ্গে পেন গেলে দোয়াতকেও যেতে হবে। একসঙ্গে সবাইকে যেতে হবে। কিন্তু এই সরকার প্রমাণ ছাড়া কাউকে কিচ্ছু করবে না। ধৈর্য ধরুন। প্রমাণ জোগাড় করছি। কাউকে ছাড়া হবে না।'