একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ বাঁধা নিয়ে ধর্মতলা এলাকায় রবিবার মাপতে গিয়েছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের নেতা-বিধায়করা। বেন্টিক স্ট্রিটের একাংশে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে চলেছিল ওই জরিপের কাজ। এবার ওই ঘটনায় মামলা করল কলকাতা পুলিশ। সেখানে মঞ্চ বাঁধার জন্য মাপজোক করেন কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা। ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় জমায়েতের কারণে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। আর তাতে নিত্যযাত্রীদের অসুবিধা হয়েছে। এই মর্মে তিন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আর প্রশাসনের অনুমতি মেলার আগেই রাস্তার ওপর কুণালদের এই আগাম মাপজোকের উদ্যোগকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৮ জুন দুপুর ২টো ৫০ থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ওই রাস্তা আটকে রেখেছিলেন কুণাল, দোলা, বৈশ্বানররা। জবাবদিহি করতে তিন জনের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করেছে হেয়ার স্ট্রিট থানা। এই বিষয়ে তৃণমূলের কালীঘাটপন্থীদের নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুমতি ছাড়াই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে মঞ্চের জায়গা মাপাকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন সভার অনুমতির জন্য ১০৪ বার হাইকোর্টে ছুটতে হয়েছিল। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে রানি রাসমণি রোড চেয়েছিলেন! আমার ধারণা ছিল প্রচুর লোক হবে। তাই আমিই বলেছিলাম সভাটি ওয়াই-চ্যানেলে করুন। কিন্তু তা বলে এবার সভার জন্য শুধু একটা আবেদন জানিয়েই সঙ্গে সঙ্গে কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ফিতে নিয়ে চলে যাবেন? মামারবাড়ি নাকি? কে অধিকার দিয়েছে আপনাকে?’
অন্যদিকে ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা বিধায়করা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছেন। অথচ কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে থানায় দুটি চিঠি দেওয়া হয়। একটি অভিযোগ ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে। অপরটি সভা করার অনুমতি চেয়ে। এই বিষয়টি নিয়েই কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, ‘তৃণমূলের একদল বলছে আমরাই আসল, অন্য দল বলছে আমরা ল্যাম্পপোস্ট। ইচ্ছে থাকলে ব্রিগেডে যান না। রাস্তা আটকে কেন মাপজোক করছেন?’
তাছাড়া কদিন আগে উত্তর কলকাতায় কর্মীসভা করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পাঁচজনকে নিয়ে হলেও ধর্মতলার বুকে ২১ জুলাই সমাবেশ করবেন। তবে তাঁরা আদৌ এই অনুষ্ঠানের অনুমতি পাবেন কিনা সেটা নিয়ে আইনি জটিলতা আছেই। তার মাঝেই নতুন করে ‘কালীঘাটে তৃণমূলের’ তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলো থানায়। এই আবহে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘আগে নিয়ম মেনে পারমিশন চান, কোথায় জায়গা দেওয়া যায় তা আমরা বিবেচনা করে বলে দেব। আপনাদের তো দাবি যে প্রচুর লোক হয়, ৩০ লক্ষ লোক হয়! ২০১১ সালে তো ব্রিগেডে একুশে জুলাই করেছিলেন, এবারেও চলুন না ব্রিগেডে যাই। দম থাকলে সেখানে লড়াই করে দেখান। আসলে এবার আপনাদের সভায় লোকই আসবে না।’