নোটিসের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতেই জাতীয় সড়কের ধারে গড়ে ওঠা ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদে নামল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকাল থেকে ঝাড়গ্রাম জেলার লোধাশুলি এলাকায় ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে থাকা একের পর এক দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। হঠাৎ করে জীবিকার একমাত্র সম্বল হারিয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েন বহু ব্যবসায়ী।
জানা গিয়েছে, প্রায় ছয় মাস আগে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ লোধাশুলির ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিস দেয়। পরে আবার সপ্তাহ দুয়েক আগে ফের নোটিস দেওয়া হয়। সেই নোটিসের মেয়াদ শেষ হয় রবিবার। আজ, সোমবার সকাল থেকেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লোধাশুলি জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১৫০টি ছোট-বড় দোকান রয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের ফলে বহু পরিবার জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আগামী দিনে কীভাবে সংসার চলবে, সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন দোকানদাররা। এদিকে, গত কয়েকদিন আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো। তিনি জানিয়েছিলেন, লোধাশুলি এলাকায় জেলা পরিষদের জমিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য স্টল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, ওই জমি জাতীয় সড়ক থেকে অনেকটাই ভিতরে হওয়ায় সেখানে বাস বা অন্যান্য যানবাহন ঢোকে না। ফলে ওই জায়গায় ব্যবসা করা কঠিন হবে। ব্যবসায়ীদের দাবি, জাতীয় সড়ক থেকে প্রায় ৩০ মিটার দূরে থাকা ড্রেনের উপর কংক্রিটের ঢালাই করে ছোট ছোট স্থায়ী স্টল নির্মাণ করা হলে তাঁরা সেখানেই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন। চায়ের দোকানদার সমরেশ খাড়ুয়া বলেন, মন্ত্রী জানিয়েছেন জেলা পরিষদের জমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। জাতীয় সড়কের কাছেই ড্রেনের উপর কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ছোট ছোট স্টল ভাড়ায় দেওয়া হোক। এই দোকানের উপরেই সংসার নির্ভর করে।