• কোমরে দড়ি, গলায় জুতোর মালা, উঠল ‘চোর’ স্লোগান, সিঙ্গুরে জনরোষের মুখে তৃণমূল নেতা
    এই সময় | ৩০ জুন ২০২৬
  • পরনে জিনস আর ফুলহাতা শার্ট। কিন্তু কোমরে দড়ি আর গলায় জুতোর মালা। তৃণমূল নেতা অদ্বৈত দাসের চোখে-মুখে হতভম্ব দৃষ্টি। কী হচ্ছে যেন ঠিক বুঝতে পারছেন না তিনি। তাঁকে ঘিরে ধরে রীতিমতো বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চাইলেন জবাবদিহি। চারদিক থেকে উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান। কেউ ডিম ছুড়ে মারলেন, কেউ আবার তেড়ে গেলেন তৃণমূল নেতার দিকে। সোমবার হুগলির সিঙ্গুরের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, অদ্বৈত হুগলির সিঙ্গুরের বাগডাঙ্গা ছিনামোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। প্রাক্তন বিধায়ক বেচারাম মান্নার ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিতি রয়েছে তাঁর। অদ্বৈতর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, কাটমানি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। কিন্তু তৃণমূল জমানায় তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি কেউই।

    এ দিন বাজারে যাচ্ছিলেন অদ্বৈত। তখনই তাঁকে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথমে কোমরে দড়ি বেঁধে, গলায় জুতোর মালা পরিয়ে তাঁকে এলাকায় ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ। শেষে বাজারে একটা পোস্টের সঙ্গে গোরু বাঁধার মতো করে বেঁধে রাখা হয় অদ্বৈতকে। তাঁকে ঘিরে ক্ষোভ উগরে দিতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ অদ্বৈতকে ডিম ছুড়ে মারেন, কেউ আবার ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে যায় সিঙ্গুর থানার পুলিশ। তাঁরাই অদ্বৈতকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেন। পুরো ঘটনায় বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পরে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে বিজেপি। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পদ্মশিবির। তাঁদের পাল্টা দাবি, তৃণমূল নেতা জনরোষের শিকার। এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই।

    তবে এ বারই প্রথম নয়। আগেও কাঁচড়াপাড়ার অভিজিৎ রায়, উলুবেড়িয়ার দীপঙ্কর ঘোষ, সাঁকরাইলের সাহিন মোল্লা, হাসনাবাদের সমিত কুমার ঘোষদের কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয়েছে। শ্যামপুরে তৃণমূল নেতা সন্ন্যাসী মান্নার অর্ধেক মাথা কামিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর দৃশ্য ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সিঙ্গুরের ঘটনাও সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।

  • Link to this news (এই সময়)