• বাঁকুড়াতেই যেন এক টুকরো পুরী! ১০৮ কলসের পবিত্র জলে জগন্নাথদেবের মহাস্নানে মাতল কামারপাড়া
    News18 বাংলা | ৩০ জুন ২০২৬
  • : পুরীর আধ্যাত্মিক অনুভূতি এবার যেন ধরা পড়ল বাঁকুড়া শহরের বুকেই। জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্নানযাত্রা উপলক্ষে শহরে তৈরি হয় এক অনন্য ভক্তিময় পরিবেশ, যেখানে উপস্থিত বহু মানুষের মনে এক মুহূর্তের জন্য হলেও ফিরে আসে পুরীর জগন্নাথধামের আবহ। পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথ মন্দিরের আদলে সম্পূর্ণ শাস্ত্র মেনে ১০৮টি কলসের পবিত্র জল দিয়ে ভগবান জগন্নাথ, ভ্রাতা বলরাম এবং দেবী সুভদ্রার মহাস্নানের আয়োজন করা হয়। বাঁকুড়া শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কামারপাড়ায় ইসকন অনুমোদিত শ্রী শ্রী হরে কৃষ্ণ নামহট্ট সংঘের উদ্যোগে এই বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন ঘিরে সকাল থেকেই ভক্তদের ঢল নামে। নারী, পুরুষ, শিশু থেকে প্রবীণ—সকলের উপস্থিতিতে এলাকা যেন পরিণত হয় এক ক্ষুদ্র পুরীতে।সকালের প্রথম প্রহর থেকেই “জয় জগন্নাথ”, “হরে কৃষ্ণ” ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা কামারপাড়া এলাকা। ধর্মীয় আচার ও বৈদিক নিয়ম মেনে শুরু হয় মহাস্নান পর্ব। ১০৮টি কলসে ভরা গঙ্গাজল ও পবিত্র জল ফুল, চন্দন, জাফরান, কস্তুরী এবং বিভিন্ন সুগন্ধি দ্রব্যের সঙ্গে মিশিয়ে এক বিশেষ আচার অনুসারে দেবত্রয়ের স্নান করান হয়।

    আয়োজকদের দাবি, পুরীর মতোই যতটা সম্ভব ঐতিহ্য ও অথেন্টিসিটি বজায় রেখেই সম্পন্ন করা হয়েছে এই অনুষ্ঠান। ভক্তদের বিশ্বাস, বছরে মাত্র একবার অনুষ্ঠিত এই স্নানযাত্রা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর পরেই অসুস্থতার প্রতীক হিসেবে জগন্নাথদেব ‘অনবাসর’-এ যান এবং তারপর রথযাত্রায় পুনরায় দর্শন দেন। ফলে এই বিশেষ স্নানযাত্রা দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও বহু মানুষ উপস্থিত হন।মহাস্নান সম্পন্ন হওয়ার পর দেবত্রয়কে বিশেষভাবে সাজান হয়। ভগবান জগন্নাথকে পরান হয় বিশেষ ‘গজানন’ বা গণেশ বেশ, যা এই দিনের অন্যতম আকর্ষণ। এরপর শুরু হয় রাজভোগ আরতি। মন্দির প্রাঙ্গণে তখন বাজতে থাকে ঐতিহ্যবাহী নহবত, সানাই এবং খোল-করতালের শব্দ। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একটানা চলে হরিনাম সংকীর্তন, পূজা, ভজন ও ধর্মীয় আলোচনা। উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

    অনেকেই জানান, বাঁকুড়ার মত শহরে এত সুন্দরভাবে পুরী ও মায়াপুরের আবহ তৈরি হতে দেখাটা সত্যিই বিরল অভিজ্ঞতা। কেউ কেউ পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে এসে দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রথযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত এই স্নানযাত্রা উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভক্তি, সংস্কৃতি ও আবেগের এক মিলনমেলা হয়ে উঠেছিল। ছোট ছোট শিশুদের যেমন জগন্নাথের নাম জপ করতে দেখা যায়, তেমনই যুবক-যুবতীদের দেখা যায় কীর্তনের তালে দু’হাত তুলে নৃত্যে অংশ নিতে।

    প্রবীণদের চোখেমুখেও ছিল অন্যরকম তৃপ্তির ছাপ। সন্ধ্যা নামার পরেও উৎসবের আবহ ছিল অটুট। বহু মানুষ মনে করছেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় চেতনা নয়, সমাজের মধ্যে ঐক্য ও সংস্কৃতির বন্ধনও আরও দৃঢ় করে। বাঁকুড়ার বুকে এদিন যেন সত্যিই জীবন্ত হয়ে উঠল রথযাত্রার আগাম উন্মাদনা, আর এক দিনের জন্য হলেও শহরবাসী অনুভব করলেন পুরীর মহাপ্রভু জগন্নাথের অলৌকিক উপস্থিতি।
  • Link to this news (News18 বাংলা)