• রয়েছে আধার-ভোটার, করেছেন বিয়েও, ১০ বছর পরে মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার ‘বাংলাদেশি’
    এই সময় | ৩০ জুন ২০২৬
  • পরিচয় গোপন করে প্রায় দশ বছর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। সোমবার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে মহম্মদ সোহেল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল সাগরদিঘি থানার পুলিশ। আপাতত তাঁকে আহিরণের হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত মহম্মদ সোহেলের বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। প্রায় দশ বছর আগে উত্তর ২৪ পরগনার ঝাঁওডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে অনুপ্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। প্রথমেই নিজের নাম বদলে রাখেন ‘সোহেল শেখ’। তার পরে চলে যান মুম্বই। বেশ কিছু দিন সেখানেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন। তার পরে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থানার মোরগ্রামে এসে পাকাপাকি ভাবে বসবাস শুরু করেন।

    শুধু তাই নয়, নিজের পরিচয় গোপন করেই তিনি আধার কার্ড, ভোটার কার্ড তৈরি করান বলেও অভিযোগ উঠেছে। সাগরদিঘির ইসলামপুরের এক তরুণীকে বিয়েও করেছিলেন তিনি। বর্তমানে তাঁদের দু’টি সন্তান রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গোপন সূত্রে সোহেলের আসল পরিচয় জানতে পেরে এ দিন মোরগ্রামে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। তখনই হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় তাঁকে।

    ধৃত সোহেলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আহিরণের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। কী ভাবে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকলেন, ভুয়ো পরিচয়ে আধার ও ভোটার কার্ড তৈরি করলেন, এর সঙ্গে কোনও চক্র বা অন্য কেউ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি তাঁর ভারতে বসবাসের সমস্ত নথি ও যোগাযোগের সূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    রাজ্যে পালাবদলের পরেই ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ পলিসি চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পর থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। রাজ্য সরকারের হিসেব অনুযায়ী, ৮ জুন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জন অনুপ্রবেশকারীকে ‘ডিপোর্ট’ করা হয়েছে। রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় যে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হয়েছে সেখানে আরও ৮৩৬ জন অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন, যাঁদের দ্রুত ‘ডিপোর্ট’ করা হবে। শুভেন্দুর কথায়, ‘এই কাজকে অগ্রাধিকার না দিলে দেশ সুরক্ষিত থাকবে না।’

  • Link to this news (এই সময়)