সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
‘আদর্শ গণতন্ত্রের’ স্বার্থে রাজ্যে বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকে থাকা উচিত— এমনই পর্যবেক্ষণ বাংলার শাসকদল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তৃণমূল কোনও রাজনৈতিক দল ছিল না, ছিল লুটেরার গোষ্ঠী, যারা কালের নিয়মে কপালের লিখনে চলে গিয়েছে। তাঁর আরও দাবি, বাংলা থেকে তৃণমূলের চলে যাওয়াই নিশ্চিত ছিল, ওরা এখন গভীর কোমায় আছে, ওদের বাঁচানোর দায় বিজেপির নয়।
এরপরেও কেন বিরোধী দল হিসেবে জোড়াফুলের টিকে থাকা প্রয়োজন? এই প্রশ্নের জবাবে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীকের জবাব, ‘তৃণমূল শুধরে যাক দ্রুত৷ যে ক’জন বিজেপির বিরুদ্ধে জিতে এসেছেন, তাঁরা সুস্থ থাকুন৷ গণতন্ত্রে বিরোধীদের প্রয়োজন আছে। আমরাও চাই, বিরোধী থাক৷ বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্রে পথ চলা যায় না৷’ এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, বিধানসভার ফ্লোর বিরোধীদের জন্য (ফ্লোর বিলংগস টু দ্য অপোজ়িশন)। বিধানসভায় শাসক ও বিরোধীদের কথা বলার সমান সুযোগ থাকা দরকার। বস্তুত বিধানসভার চলতি অধিবেশনে সেই নিয়মই মেনে চলছে রাজ্যের শাসকদল। শমীকের কথার মধ্যেও তারই অনুরণন রয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।
যদিও নাম না–করে বিরোধী তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীকেও এ দিন কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন শমীক। তাঁর কথায়, ‘এখন তৃণমূলের এক গোষ্ঠী অন্যের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিচ্ছে, একে অন্যের বিরুদ্ধে এফআইআর করছে৷ আগেও ওরা এটা করত৷ কিন্তু তখন সব কিছু পর্দার পিছনে থাকত৷ এখন পুরো খেলা সামনে চলে এসেছে৷’ তাঁর সংযোজন, ‘তৃণমূল এখন ক্ষমতায় নেই৷ আগে ৭৫-২৫ এর যে ভাগ–বাঁটোয়ারার হিসেব ছিল, সেটাও শেষ হয়ে গিয়েছে৷ টাকা ওরা পাচ্ছে না কোনও জায়গা থেকে৷ যার কাছে যা আছে, সেগুলি বাঁচানোর চেষ্টা করছে সবাই৷ এক জন টাকা লুকিয়ে রাখলে অন্য জন সেই তথ্য দিয়ে দিচ্ছেন৷’
এর পাশাপাশি বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি চালু করার বিষয় নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন শমীক ভট্টাচার্য৷ ইতিমধ্যে এ নিয়ে বিলের খসড়া তৈরির কাজ চলছে। এ নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথাও সোমবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন এই ইস্যুতেও তৃণমূলকে নিশানা করেছেন শমীক। টেনে এনেছেন ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রসঙ্গও। তাঁর কথায়, ‘বিরোধীদের পুরো রাজনীতিটাই সংখ্যালঘু কেন্দ্রিক৷ এই কারণেই ওরা (মূলত তৃণমূল) ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করেছিল৷ কারণ, বিরোধীদের বহু নেতা অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি কবজা করে রেখেছিলেন৷ এই আইন গরিবদের জন্য, অনাথ বাচ্চাদের জন্য, গরিব মহিলাদের জন্য৷ ওয়াকফ সম্পত্তি যাঁরা কবজা করেছিলেন, তাঁদের থেকে সম্পত্তি মুক্ত করে এনে তদন্ত করে তার অর্থ গরিবদের মধ্যে বিলি করার জন্যই এই আইন করা হয়েছে৷ গরিবদের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যই ওয়াকফ সংশোধনী আইন আনা হয়েছে৷’ এরপরে তিনি বলেন, ‘যে দিন বিজেপির সরকার গঠন হয়েছিল, সে দিন থেকেই আমরা ইউসিসি নিয়ে সরব হয়েছিলাম৷ এটা আমাদের ঘোষিত অবস্থান৷ এখানে কোনও লুকোচুরি নেই৷ শুধু বিজেপি নয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষও চাইছেন, ইউসিসি চালু করা হোক৷ এটা হবেই৷ আমরা এটা চালু করবই৷ একটা দেশে একটাই আইন থাকবে৷ এটাই নিড অফ দ্য আওয়ার৷’