এই সময়: মোক্ষম সময়টাতেই সার্ভার স্লো হয়ে গেল। অনলাইনে টাকা পে করেছিলেন যাত্রী। তবে চাকাটা যে ঘুরতে শুরু করল, সেটা আর থামে না। নতুন করে যখন টিকিট বুক করতে গেলেন, ততক্ষণে কনফার্মড টিকিটের পর্ব শেষ হয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে ওয়েটিং লিস্ট–এর দীর্ঘ তালিকা। গত দু’দশকে রেলের অনলাইন টিকিট বুকিং সিস্টেমে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। ২০০২–তে অনলাইন টিকিট বুকিং চালু হওয়ার পরে ২০২৬–এ দেশের মোট ট্রেন টিকিট বুকিংয়ের প্রায় ৮৮ শতাংশই অনলাইনে হয়। কিন্তু তার পরেও যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বুকিংয়ের সময়ে ওয়েবসাইট অত্যন্ত ধীর হয়ে যায়, লগ-ইনে সমস্যা হয়, পেমেন্ট করা যায় না, পেজ লোড হতে অনেক সময় লাগে। এই সমস্যার সমাধানে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম কর্পোরেশন (আইআরসিটিসি) নতুন ওয়েবসাইট চালু করতে চলেছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেছেন, নতুন ওয়েবসাইট লঞ্চ হবে ১৫ জুলাই।
কী থাকছে নতুন ওয়েবসাইটে?
নতুন ওয়েবসাইটে টিকিট বুকিংয়ের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় প্রতি মিনিটে প্রায় ৩২ হাজার টিকিট বুক করা যায়। নতুন ব্যবস্থায় প্রতি মিনিটে দেড় লক্ষেরও বেশি টিকিট বুকিং করা যাবে। অর্থাৎ, বুকিংয়ের ক্ষমতা প্রায় পাঁচ গুণ বাড়বে। টিকিট এনকোয়ারির ক্ষমতা বাড়বে ১০ গুণ। এখন প্রতি মিনিটে প্রায় ৪ লক্ষ এনকোয়ারি হয়। নতুন ওয়েসাইটে মিনিটে ৪০ লক্ষেরও বেশি এনকোয়ারি করা যাবে।
নতুন প্যাসেঞ্জার রিজ়ার্ভ সিস্টেমে কী কী সুবিধা পাবেন যাত্রীরা?
টিকিট বুকিংয়ের সময়ে যাত্রীরা নিজেদের পছন্দের আসনের ধরন নির্বাচন করতে পারবেন। ফলে পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণে সুবিধা হবে। প্রবীণদের—যাঁরা লোয়ার বার্থ বা নির্দিষ্ট কোচে আসন পছন্দ করেন, তাঁরা সুবিধা পাবেন।
ফেয়ার ক্যালেন্ডার
এই ফিচারে যাত্রীরা বিভিন্ন দিনের টিকিটের ভাড়ার তুলনা করতে পারবেন। ফলে টিকিট বুক করার আগে কোন দিন ভাড়া কম, তা সহজেই জানা যাবে। সেই অনুযায়ী ভ্রমণের পরিকল্পনা আরও সহজ হবে।
মাল্টিলিঙ্গুয়াল ইন্টারফেস
নতুন প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভারতীয় ভাষার সুবিধা থাকবে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নিজেদের পছন্দের ভাষায় টিকিট বুকিং ও তথ্য অনুসন্ধান করতে পারবেন।
বিশেষ যাত্রীদের জন্য উন্নততর সুবিধা
নতুন সিস্টেম-এ প্রবীণ নাগরিক, বিশেষ ভাবে সক্ষম, পড়ুয়া এবং অন্যান্য বিশেষ শ্রেণির যাত্রীদের জন্য টিকিট বুকিং এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত পরিষেবা আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক হবে।
তৎকাল বুকিংও কি সহজ হবে?
রেল এখনও তৎকাল বুকিংয়ের নিয়মে কোনও পরিবর্তনের ঘোষণা করেনি। তবে নতুন ব্যবস্থায় বুকিংয়ের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে তৎকাল বুকিংয়ের সময়ে ওয়েবসাইটে চাপ কমবে—এমনটাই আশা করা হচ্ছে। যে সব যাত্রী এতদিন তৎকাল বুকিংয়ের সময়ে সার্ভারে সমস্যা, পেমেন্ট ব্যর্থতা, বুকিংয়ে অস্বাভাবিক দেরির সমস্যায় পড়তেন, তাঁরা নতুন ব্যবস্থায় আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাওয়ার আশা করতেই পারেন। রেল জানাচ্ছে, নতুন ওয়েবসাইট লঞ্চ হলে যাত্রীরা একই বুকিং প্ল্যাটফর্ম থেকেই সব সুবিধা পাবেন। ফলে তাঁদের আর আলাদা আলাদা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।