• বালি ট্রিপ বাতিল করতে কেতনের পাসপোর্ট চুরি করেন সিয়া–ই?
    এই সময় | ৩০ জুন ২০২৬
  • এই সময়: ইন্দোনেশিয়ার বালিতে প্রি–ওয়েডিং শুটের ট্রিপ বাতিল করতে কেতন আগরওয়ালের পাসপোর্ট চুরি করে ফেলে দিয়েছিলেন তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েল? পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। আর সেই পাসপোর্টের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার–সহ তদন্তের অন্যান্য প্রয়োজনে অভিযুক্ত সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরিকে আরও পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠাল মহারাষ্ট্রের আদালত। ১৮ জুন মহারাষ্ট্রের লোহাগড় ফোর্টে ট্রেক করতে গিয়ে ৪০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে মৃত্যু হয় ধনী ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে কেতনের।

    প্রথমে সেটাকে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও পরে তদন্তের সূত্রে জানা যায়, বছর কুড়ির সিয়া এবং তাঁর ২২ বছরের প্রেমিক চেতন মিলে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছেন বছর ছাব্বিশের কেতনকে। শনিবার লোহাগড় ফোর্টে সিয়াকে নিয়ে গিয়ে পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করিয়েছে পুলিশ। তাতে জানা গিয়েছে, খুনের ঠিক আগে বেশ কয়েক মিনিট চেতনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন সিয়া, শেয়ার করেন নিজেদের লোকেশন। বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, জায়গাটা জনমানবশূন্য, অন্য কোনও পর্যটক নেই। ধাক্কা মারার ঠিক আগের মুহূর্তে জুতোর ফিতে বাঁধার ছুতোয় নিচু হয়ে বসে পড়েন সিয়া, ঠিক তখনই আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে কেতনকে পিছন থেকে ধাক্কা মারেন চেতন। পুলিশ সূত্রে খবর, সিয়ার বসে পড়াটাই ছিল সিগন্যাল। কেতন যাতে পড়ে যাওয়ার সময়ে সিয়াকে ধরার চেষ্টা করতে না পারেন, সেটা মাথায় রেখেই সিয়াকে এই সিগন্যাল দেওয়ার কথা বলেছিলেন চেতন। খুনের পরে পোশাক পরিবর্তন করে পালান। পুনে থেকে লোহাগড় ফোর্ট পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার রাস্তা স্কুটারে যাতায়াত করেছিলেন তিনি। গাড়িতে এলে টোল প্লাজ়ায় চিহ্নিত হতে পারেন, এটা মাথায় রেখেই স্কুটার বেছেছিলেন চেতন।

    এ দিকে, কেতনের পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার কারণে ৬ জুন সিয়াদের বালি–ট্রিপ ক্যানসেল হয়। কেতনের বাবার দাবি ছিল, ৮ জুন কেতনকে প্রথম মারার চেষ্টা করেছিলেন সিয়া। সেই প্ল্যানের কারণেই ইচ্ছে করে কেতনের পাসপোর্ট চুরি করে বালি–ট্রিপ ক্যানসেল করান তিনি। বৈভব জাধভ নামে যে গাড়িচালক সেদিন সিয়াদের এয়ারপোর্টে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর বয়ানেও এই অভিযোগেরই প্রতিফলন। জাধভের দাবি, সেদিন সিয়াকে জোর করে, প্রায় ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলেছিলেন তাঁর ভাই সাহিল। পুরো রাস্তাটা তাঁরা ঝগড়া করতে করতে যান। মাঝপথ থেকে ওঠেন কেতন ও তাঁর বোন। তাঁরা একটা ফুডকোর্টে কিছুক্ষণের জন্য থামেন। জাধভের দাবি, মাঝখানে একবার ফুডকোর্ট থেকে বেরিয়ে গাড়িতে এসে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে যান সিয়া। পরে ওঁদের বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পরেও জাধভকে একবার ফোন করে কেতন জানতে চেয়েছিলেন, তাঁর পাসপোর্ট গাড়িতে পড়ে গিয়েছে কি না।

    পুলিশ ইনস্পেক্টর দীনেশ তাওড়ের কথায়, ‘তদন্তে স্পষ্ট, খালাপুরের ফুড মলে গাড়ি দাঁড়ানোর সময়েই কেতনের পাসপোর্ট চুরি করে ওখানকারই শৌচালয়ে ফেলে দেন সিয়া। ওই পাসপোর্ট উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।’

  • Link to this news (এই সময়)