• বিমের সঙ্গে শেডের কোনও যোগ ছিল না, তারাতলার ঘটনায় দাবি ফরেন্সিক দলের
    এই সময় | ৩০ জুন ২০২৬
  • এই সময়: একটা গোটা বড় টিন নয়। কারখানার শেড বানানো হয়েছিল ছোট ছোট টিনের টুকরো যোগ করে। নাট–বল্টু বা স্ক্রু দিয়ে আটকানো ছিল ছোট ছোট ৩০–৪০টি টিনের টুকরো। তার উপরে সেগুলি ছিল বেশ পাতলা ও স্লিপারিও। এমনকী বিমের সঙ্গে টিনের শেডের কোনও যোগও নাকি ছিল না। ফলে, সেই শেডের উপরে যখন ক্রংকিটের ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল, তখনই সে নড়তে শুরু করেছিল। তাতে অবশ্য টনক নড়েনি। কাজ বন্ধও হয়নি। শেষে হুড়মুড়িয়ে পড়ে কেড়ে নিয়েছে ১৬টি প্রাণ।

    তারাতলায় বিপর্যয়ের পরে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তার ভিত্তিতে পুলিশের তদন্তকারীদের প্রাথমিক ভাবে এই তথ্যই জানিয়েছে ফরেন্সিক দল। তার সঙ্গে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। এক, দোতলা ঢালাই না করে কী করে তিনতলা ঢালাই হচ্ছিল? সাইটের সয়েল টেস্ট বা মাটি পরীক্ষা হয়েছিল? হলে, রির্পোটে কী ছিল তা জানতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

    বুধবার তারাতলায় গোডাউন ভেঙে বিপর্যয়ের পরে কেটে গিয়েছে ছ’দিন। কলকাতা পুরসভা থেকে গোডাউন সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়েছে পুলিশ। বেআইনি ভাবে ওই গোডাউন বানানোর অনুমোদন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে রবিবার তাঁর হাওড়ার বাড়িতে সিটের টিম তল্লাশি চালায়। লালবাজার সূত্রে খবর, তাঁর বাড়ি থেকে দু’টি মোবাইল এবং বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। অভিযোগ, তদন্তকারীদের সাহায্য করছেন না কালীচরণ।

    বন্দর কর্তৃপক্ষের থেকে যে ‘বেহরা ব্রাদার্স’ ওই গোডাউন লিজ়ে নিয়েছিল, তার কর্ণধার শম্ভুনাথ বেহরাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, তিনিও তদন্তে অসহযোগিতা করছেন। সম্প্রতি ‘বেহরা ব্রাদার্স’–এর দপ্তরেও তল্লাশি করে কলকাতা পুলিশ। সেখান থেকেও কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, গোডাউনের নির্মাণকারী সংস্থা ‘অয়ন ট্রেডার্স’–এর সঙ্গে শম্ভুনাথের কত দিনের চুক্তি ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আবদুল হামিদ নামে যে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তদন্তকারীদের দাবি, তিনিই ‘দালাল’ হিসেবে গোডাউন নির্মাণের জন্য পুরসভা থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে এসেছিলেন। তার জন্য মোটা অঙ্কের টাকাও নিয়েছিলেন। কিন্তু টাকার অঙ্ক নিয়ে হামিদ কিছু বলতে চাইছেন না বলে লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে। ছ’জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরসভার লাইন্সেস দপ্তরের এক আধিকারিকও রয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)