• পদত্যাগ করলেন তাম্রলিপ্ত পৌরসভার চেয়ারম্যান, বোর্ড মিটিংয়ে দিলেন ইস্তফা
    News18 বাংলা | ৩০ জুন ২০২৬
  • রাজ্য তথা জেলার অন্যতম প্রাচীন পৌরসভা তমলুক বা তাম্রলিপ্ত পৌরসভা। ২০২২ সালের পৌর নির্বাচনে এই পৌরসভায় ক্ষমতাসীন হয় তৎকালীন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০ ওয়ার্ড বিশিষ্ট এই পৌরসভায় ১৮ টি ওয়ার্ডেই জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা। চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই পৌরসভায় চেয়ারম্যান বদল করে তৎকালীন শাসকদল। পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তমলুকের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈদ্যনাথ সিনহা! আর ২৯ জুন সোমবার বোর্ড মিটিংয়ে নিজের পদত্যাগ পত্র তুলে দেন পৌরসভার এক্সিকিউটিভ আধিকারিকের হাতে।

    ২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে পালাবাদলের নতুন সরকার। বিজেপি পরিচালিত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলায় জেলায় বিভিন্ন পৌরসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে পৌরপ্রধান ও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের ইস্তফার হিড়িক পড়ে! এবার পূর্ব মেদনীপুর জেলার সদর শহর তমলুকে পৌরসভার চেয়ারম্যান ইস্তফা দিলেন! ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তাম্রলিপ্ত পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত ২০২২ সালে পৌরবোর্ড গঠিত হলে সেইসময় চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তমলুক রাজ পরিবারের সদস্য ড. দীপেন্দ্র নারায়ণ রায়। কিন্তু তাঁকে দল থেকে ইস্তফা দিতে বলায় ২৫ সালের নভেম্বর মাসেই ইস্তফা দেন। এরপর অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন চঞ্চল খাঁড়া।

    তাম্রলিপ্ত পৌরসভায় শেষ আট মাসের মধ্যে পরপর তিনজন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলেন। চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ক্ষেত্রে নবতম সংযোজন হলেন বৈদ্যনাথ সাহা। পদত্যাগের বিষয়ে তিনি মূলত শারীরিক অসুস্থতা কথায় উল্লেখ করেছেন। বিদায়ী চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ সাহা জানান, “কয়েকদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলাম। আর তার কারণেই মানসিকভাবে চাপে বাড়ছিল। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা নিয়েও সংশয়ে পড়েছিলাম। সেজন্য ভাবলাম শরীর ভাল নয়, কাজ চালাতে পারছি না। তার থেকে ছেড়ে দেওয়া ভাল। এখন অন্য কোনও দলে যাওয়ার কথা ভাবছি না।”

    তাম্রলিপ্ত পৌরসভা রাজ্যে পালাবদলের পরও প্রায় দু’মাস পৌরবোর্ড চালানোর পর নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে তাম্রলিপ্ত পৌরসভার বিরোধী দলনেত্রী জয়া দাস নায়ক জানিয়েছেন, “উনি পৌরবোর্ড অফ কাউন্সিলর এর কাছে লিখিত ইস্তফাপত্র দিয়েছেন। পৌর আইন মেনে ওনার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ হয়েছে। কী কারণে উনি পদত্যাগ করলেন তা বলেন নি, আমরাও জানি না” সবমিলিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এই প্রাচীন শহরে পৌরবোর্ড এখন ক্ষমতাশূন্য হল। ফলে বর্ষাকালে পৌর পরিষেবা কেমন থাকবে, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তমলুকের বাসিন্দারা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)